1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। প্রস্তাবটির মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর আগে একই প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল।

মঙ্গলবার সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে গৃহীত হয়। রিপাবলিকান দলের চার সিনেটর—র‌্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মারকাওস্কি ও বিল ক্যাসিডি—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির সমালোচনা করে বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, অস্থিতিশীলতা ও ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দেন, যুদ্ধ ঘোষণা ও সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, যুদ্ধটি ছিল অপ্রয়োজনীয় এবং এর অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য অনেক বেশি।

যদিও প্রস্তাবটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তবে এটি সরাসরি আইন নয় এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে এর তাৎক্ষণিক আইনি প্রভাব সীমিত। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রস্তাবটির বিরোধীরা দাবি করেছেন, এমন উদ্যোগ চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। তবে সমর্থকদের মতে, যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের সমর্থন কমছে। ফলে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পাস

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। প্রস্তাবটির মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর আগে একই প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল।

মঙ্গলবার সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে গৃহীত হয়। রিপাবলিকান দলের চার সিনেটর—র‌্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মারকাওস্কি ও বিল ক্যাসিডি—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির সমালোচনা করে বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, অস্থিতিশীলতা ও ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দেন, যুদ্ধ ঘোষণা ও সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, যুদ্ধটি ছিল অপ্রয়োজনীয় এবং এর অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য অনেক বেশি।

যদিও প্রস্তাবটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তবে এটি সরাসরি আইন নয় এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে এর তাৎক্ষণিক আইনি প্রভাব সীমিত। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রস্তাবটির বিরোধীরা দাবি করেছেন, এমন উদ্যোগ চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। তবে সমর্থকদের মতে, যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের সমর্থন কমছে। ফলে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা