প্রাণঘাতী ডেঙ্গু মোকাবিলায় সৈন্য মোতায়েন করছে শ্রীলঙ্কা
প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রীলঙ্কাজুড়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির সরকার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে গঠিত বিশেষ অভিযানে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেবেন।
সরকার জানিয়েছে, মশার বংশবিস্তার রোধে আগামী বুধবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান শুরু হবে।
ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এতে আক্রান্তদের তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেশিতে ব্যথা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ দ্রুততর ও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে একদিনেই এক হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
দেশটির ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কলম্বোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে রোগীর চাপ বাড়ছে। ২০১৭ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জমে থাকা পানি এবং অপরিকল্পিতভাবে ফেলা বর্জ্য মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা ডেঙ্গুর বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
সূত্র: এএফপি।



























