ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহ, ফ্রান্সে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম সময় পার করছে ফ্রান্স, যেখানে অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে অনিরাপদ ও নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে নেমে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও তাপমাত্রা অতীতের বিভিন্ন রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠকের পর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই তরুণ। তিনি এ ঘটনাকে “একটি মর্মান্তিক অভিশাপ” বলে উল্লেখ করেন।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লে হার্বিয়ার্স এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলে পরে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া বোর্দো অঞ্চলে গরমজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায় ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিন বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দাবদাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস (আইএফআরসি)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চরম তাপপ্রবাহ অনেক মানুষের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের পর দেশটি এমন তীব্র গরম খুব কমই দেখেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও জনসেবামূলক অবকাঠামোর ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশের ৫৪টি অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি রাজধানী প্যারিসের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লুভর মিউজিয়াম ও আইফেল টাওয়ারও নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।
স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। একইভাবে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ বায়ু ইউরোপের আকাশে আটকে গেছে। বাতাসের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাপপ্রবাহ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ও চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। ফলে জনস্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর এর প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।


























