ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৪০ বছরের খরা কাটাল মেক্সিকো
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্বাগতিক মেক্সিকো বিশ্বকাপে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। নকআউট পর্বে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি ৪০ বছরের জয়ের খরাও কাটিয়েছে তারা। সবশেষ ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে জয় পেয়েছিল মেক্সিকো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। বলের দখল ধরে রেখে দ্রুতগতির আক্রমণে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে একের পর এক চাপে ফেলে তারা। প্রথমার্ধেই সেই আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটে স্কোরবোর্ডে, দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মেক্সিকো।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ইকুয়েডর। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে একাধিক আক্রমণ চালালেও মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে সফল হতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। কর্নার, ক্রস কিংবা দূরপাল্লার শট—কোনো কৌশলই কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি।
অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করেছিল মেক্সিকো। যোগ করা সময়ে তৃতীয় গোলের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ মুহূর্তের ভুল পাস ও ফিনিশিংয়ের কারণে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। তবু ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শেষদিকে ইকুয়েডরের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয় একটি লাল কার্ড। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মুখ ঢেকে কথা বলায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে। ফলে ১০ জনের দল নিয়েই ম্যাচ শেষ করতে হয় ইকুয়েডরকে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাসও গড়েছে মেক্সিকো। বিশ্বকাপে টানা চারটি ম্যাচ জিতে একটিও গোল হজম করেনি তারা। ১৯৯০ সালের ইতালির পর প্রথম দল হিসেবে এমন কৃতিত্ব অর্জন করল মেক্সিকো। দুর্দান্ত রক্ষণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপে এলেও নকআউট পর্বেই থেমে গেল ইকুয়েডরের যাত্রা। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ভাঙতে না পেরে হতাশার বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে।





















