1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলঢাকায় বেড়েই চলেছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল, অস্তিত্ব সংকটে দেশীয় মাছ

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান , নীলফামারী প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমানে চায়না দুয়ারী  ভয়ংকর এক জালের নাম। ভয়ংকর এই জাল শুধু দেশীয় ছোট মাছই ধ্বংস করছে না। বরং এই জালে আটকা পড়ে সকল প্রজাতির শামুক, ঝিনুক, কাকড়া সহ জলজ প্রানীও ধ্বংস হচ্ছে। স্বল্প ব্যায়ে এবং স্বল্প পরিশ্রমে অধিক আয়ের উৎস হওয়ার জেলেদের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি।

নীলফামারীর জলঢাকার পৌর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাছ শিকারের নিষিদ্ধ জাল চায়না দুয়ারী। আর এ জাল দিয়ে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছে উপজেলার তিস্তা নদী  সহ বিভিন্ন নদী, মরা খাল বিলে। এসব জাল যারা বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের।

গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চরভাবনচুর তিস্তার বাধের পার এলাকার মামুন জানায়, চায়না দুয়ারি মাছ ধরার এক ধরনের ফাঁদ। ডিমওয়ালা মাছ, পোকামাকড়সহ কিছুই রেহাই নেই চায়না দুয়ারি থেকে। নদীর পানিপ্রবাহেও বাধা সৃষ্টি করে এই জাল। এ ছাড়া মাছের বংশ বিস্তারেও বিঘ্ন ঘটে।

আর এ জাল প্রকাশ্যে বিক্রি ও মাছ নিধন চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন ও এই জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা হচ্ছে না। 

কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া বুল্লাই নদীর পার এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যাবসায়ী  সাজ্জাদ জানান, চায়না দুয়ারির ফাঁদে পড়ে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। যা প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।

শুক্রবার (১২আগষ্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার তিস্তা নদী, বুল্লাই,আউলিয়াখানা,যমুনেশ্বরী, চারালকাঠা,ধুম,নদী সহ বিভিন্ন খালের মধ্যে মাছ শিকারিরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন এই জাল দিয়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই চায়না দুয়ারি ফাঁদ দিয়ে ধরা দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি হয় বলেও জানা যায়।

জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন বাজার গুলোতে এ জাল বিক্রি হচ্ছে। সামনে না রাখলেও ভিতরে রেখে বিক্রি হচ্ছে। দাম জিজ্ঞেস করলে তারা বান্ডেল ২হাজার ২শত(২,২০০/-)  টাকা  দাম চান। এসব জাল বিক্রি করা নিষেধ বললে, বিক্রেতারা জানান, আমরা ঢাকা থেকে এনে বিক্রি করি। নিষেধ হলে উৎপাদন বা বাজারজাত করে কিভাবে।

উপজেলার তিস্তা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরেন এমন কয়েকজন জেলে এ প্রতিবেদকতর  জানান, প্রকারভেদে চায়না দুয়ারির দাম ৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। তবে আগে এর দাম কিছুটা কম ছিল। এখন ব্যবহার বাড়ায় দামও বেড়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ প্রতিবেধক কে জানান, সম্প্রতি দেশব্যাপী মা মাছ রক্ষার অভিযানের অংশ হিসাবে পরিচালিত অভিযানে কারেন্ট জাল জব্দ করে ধব্বংস করা হয়। চায়না জাল বিষয়ে উপজেলার বাজার সহ বিভিন্ন স্থান সমুহে অভিযান করা হবে। তবে আমাদের জনবল সংকট থাকায় আমরা সঠিক সময়ে সব কিছু করতে পারি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

জলঢাকায় বেড়েই চলেছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল, অস্তিত্ব সংকটে দেশীয় মাছ

আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বর্তমানে চায়না দুয়ারী  ভয়ংকর এক জালের নাম। ভয়ংকর এই জাল শুধু দেশীয় ছোট মাছই ধ্বংস করছে না। বরং এই জালে আটকা পড়ে সকল প্রজাতির শামুক, ঝিনুক, কাকড়া সহ জলজ প্রানীও ধ্বংস হচ্ছে। স্বল্প ব্যায়ে এবং স্বল্প পরিশ্রমে অধিক আয়ের উৎস হওয়ার জেলেদের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি।

নীলফামারীর জলঢাকার পৌর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাছ শিকারের নিষিদ্ধ জাল চায়না দুয়ারী। আর এ জাল দিয়ে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছে উপজেলার তিস্তা নদী  সহ বিভিন্ন নদী, মরা খাল বিলে। এসব জাল যারা বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের।

গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চরভাবনচুর তিস্তার বাধের পার এলাকার মামুন জানায়, চায়না দুয়ারি মাছ ধরার এক ধরনের ফাঁদ। ডিমওয়ালা মাছ, পোকামাকড়সহ কিছুই রেহাই নেই চায়না দুয়ারি থেকে। নদীর পানিপ্রবাহেও বাধা সৃষ্টি করে এই জাল। এ ছাড়া মাছের বংশ বিস্তারেও বিঘ্ন ঘটে।

আর এ জাল প্রকাশ্যে বিক্রি ও মাছ নিধন চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন ও এই জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা হচ্ছে না। 

কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া বুল্লাই নদীর পার এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যাবসায়ী  সাজ্জাদ জানান, চায়না দুয়ারির ফাঁদে পড়ে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। যা প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।

শুক্রবার (১২আগষ্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার তিস্তা নদী, বুল্লাই,আউলিয়াখানা,যমুনেশ্বরী, চারালকাঠা,ধুম,নদী সহ বিভিন্ন খালের মধ্যে মাছ শিকারিরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন এই জাল দিয়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই চায়না দুয়ারি ফাঁদ দিয়ে ধরা দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি হয় বলেও জানা যায়।

জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন বাজার গুলোতে এ জাল বিক্রি হচ্ছে। সামনে না রাখলেও ভিতরে রেখে বিক্রি হচ্ছে। দাম জিজ্ঞেস করলে তারা বান্ডেল ২হাজার ২শত(২,২০০/-)  টাকা  দাম চান। এসব জাল বিক্রি করা নিষেধ বললে, বিক্রেতারা জানান, আমরা ঢাকা থেকে এনে বিক্রি করি। নিষেধ হলে উৎপাদন বা বাজারজাত করে কিভাবে।

উপজেলার তিস্তা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরেন এমন কয়েকজন জেলে এ প্রতিবেদকতর  জানান, প্রকারভেদে চায়না দুয়ারির দাম ৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। তবে আগে এর দাম কিছুটা কম ছিল। এখন ব্যবহার বাড়ায় দামও বেড়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ প্রতিবেধক কে জানান, সম্প্রতি দেশব্যাপী মা মাছ রক্ষার অভিযানের অংশ হিসাবে পরিচালিত অভিযানে কারেন্ট জাল জব্দ করে ধব্বংস করা হয়। চায়না জাল বিষয়ে উপজেলার বাজার সহ বিভিন্ন স্থান সমুহে অভিযান করা হবে। তবে আমাদের জনবল সংকট থাকায় আমরা সঠিক সময়ে সব কিছু করতে পারি না।