জলঢাকায় বুড়ি তিস্তা রক্ষা বাঁধে ধস: বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জনদুর্ভোগ চরমে
নীলফামারীর জলঢাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়ি তিস্তা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার এক বছরের মাথায় আবারো বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের এমন বেহাল অবস্থায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার আশংকায় দিন পার করছেন তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং স্থানীয়ভাবে বালু খেকো ও সিন্ডিকেটের কারনে নদী ও বাধ রক্ষার বালু অবৈধ ভাবে দিনে ও রাতে কেটে ট্রলি দিয়ে বিক্রি করায় বাধ দিয়ে ট্রলি চলাচলের কারণেই বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোলমুন্ডা ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা নদী খননের পাশাপাশি, ঘাটের পাড় থেকে ডাউয়াবাড়ী পর্যন্ত ডান ও বাম তীর বাধ প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সংস্কারের কাজ করা হয়েছিল।
এই বাঁধটি স্থানীয় এলাকাবাসীর চলাচলের প্রধান পথ হলেও সংস্কারের মাত্র এক বছরের মাথায় বাধ গুলো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়ে মাটি ধসে গেছে। যা বৃষ্টির তোড়ে যেকোনো সময় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সংবাদকর্মীদের দেখে কাছে এসে পথচারী আইনুল হক, আশরাফুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা সবসময় এই বাঁধের উপর দিয়েই চলাচল করি, কিন্তু বাধের কাজ শুরু এবং শেষ অবধি কাজের প্রতিষ্ঠানের কোনো সাইনবোর্ড আমাদের চোখে পড়েনি। বাঁধ সংস্কার কাজ ব্যাপক অনিয়মের কারণেই টেকসই হয়নি এই অবকাঠামো। এর উপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট। তারা বাঁধের নিচ থেকে দিনে ও রাতে বালু উত্তোলন এবং বাধে অবাধে ট্রলি চলাচলের ফলে বাঁধের উপর বিশাল গর্ত ও খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদ করেও এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।উল্টো হুমকির মুখে পরেন তারা।
কলোনি পাড়া এলাকার বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, “এমনিতেই বাঁধের অবস্থা নাজুক, তার উপর বালু বোঝাই ট্রলি প্রতিনিয়ত চলায় বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি।
মোরশেদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাস্তা গুলোর অবস্থা বেহাল হওয়ায় হাট-বাজারে যাতায়াত করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অতিরিক্ত ভারবাহী ট্রলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ এই সড়ক ও বাঁধগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন,তাদের নিষেধ করলেও তারা শুনেনা।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২৫ কিলোমিটারের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়েছে। তবে বর্তমানে কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও ট্রলি চলাচল বন্ধে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার ও নজরদারি জোরদার না করলে সামনের বর্ষায় বাঁধটি ভেঙে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়বে পুরো অঞ্চল।



















