পানিবন্দী মানুষের পাশে মানবিক ইউএনও আমজাদ হোসেন, সন্দ্বীপজুড়ে প্রশংসার জোয়ার
গত কয়েকদিন এর টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই দুর্ভোগের সময়ে পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন।
উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে দেখা গেছে ইউএনও আমজাদ হোসেনকে, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গম উড়িরচর ইউনিয়নের মানুষের জন্যও খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইউএনও। প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। অনেকেই বলেন, “আমজাদ হোসেনের মতো মানবিক ইউএনও আগে কখনো দেখিনি।”
ইউএনও আমজাদ হোসেন বলেন, “উপজেলার সব ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষের পাশে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন আরো জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কোনো মানুষ যেন খাদ্য সংকটে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই প্রতিটি ইউনিয়নে দায়িত্বশীল ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সরাসরি মাঠে কাজ করে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করছেন।
এছাড়া দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে ও ভুক্তভোগীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে চালু করা হয়েছে ইউএনও হটলাইন নম্বর। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিনিয়ত সন্দ্বীপের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন। তিনি নিশ্চিত করছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীর যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।























