জলঢাকায় জমি নিয়ে বিরোধে সাজানো মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
নীলফামারীর জলঢাকায় বাসস্ট্যান্ডের ডাঙ্গাপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সাজানো মিথ্যা মামলায় নুর আলম লাল নামের এক কোচিং শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
১৩ জুলাই, সোমবার বিকালে নুর আলম লালের নিজ বাসভবনে পরিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী সাতোয়ারা বেগম এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাতোয়ারা বেগম জানান, তাদের এলাকায় আব্দুল বারেক নামের এক ব্যক্তি প্রায় চার বছর আগে তাদের বাড়ির দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন।বাড়িতে ভাড়ায় থাকার সুবাদে আব্দুল বারেক তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এবং তাদের জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা বারেক দেখাভাল করায় নুর আলম লাল কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাকে ২ দাগে ৩ শতক জমি সাব-কবলা দলিল করে দেন। কিন্তু এরপর থেকেই আব্দুল বারেকের লোভ বেড়ে যায় এবং তিনি তাদের পুরো বসতভিটা দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। এদিকে লাল জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আব্দুল বারেক তাদের পরিবারের ওপর শত্রুতা শুরু করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ৩ জুলাই আব্দুল বারেক পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অবতারণা করেন। তিনি তার ৬ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যাকে ব্যবহার করে নুর আলম লালের বিরুদ্ধে একটি সাজানো ‘ধর্ষণ চেষ্টার’ অভিযোগ আনেন। অথচ এই ঘটনার মাত্র দুই মাস আগেই জমি নিয়ে তাদের সাথে আব্দুল বারেকের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল।
সাতোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “৩ জুলাই সন্ধ্যায় বারেক ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে এলাকায় এক গণ-উত্তেজনা সৃষ্টি করে।যা কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে আমার স্বামীকে বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে মারধর করে টেনে-হেঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলাটি দায়ের করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি স্বামীকে বাঁচাতে গেলে বারেক ও তার লোকজন তাকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে, যার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।এদিকে তার স্বামীকে কারাগারে পাঠানোর পর আব্দুল বারেক ও তার লোকজন তাদের বাড়িঘর দখল ও প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে দুই ছোট সন্তান নিয়ে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাতোয়ারা বেগম তার স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একইসাথে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং তার পরিবার ও সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় সাতোয়ারা বেগমের দুই সন্তান,রাফি,জান্নাতুল, মা রশিদা বেগম, বাবা আতাউর রহমান ও ভাই রউছুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার পরিবারের প্রাণ রক্ষা ও ন্যায়বিচারের জন্য আকুল আবেদন জানান।
























