1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত বিলে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না।

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে।সংশোধিত আইনে সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রাখার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ এলাকায় পৃথক মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ, বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত বিলে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না।

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে।সংশোধিত আইনে সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রাখার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ এলাকায় পৃথক মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ, বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।