রংপুর-সিলেটে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, বাড়তে পারে নদীর পানি
রংপুর ও সিলেট বিভাগে আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এর প্রভাবে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
শনিবার (১৮ জুলাই) এফএফডব্লিউসির প্রকাশিত প্রধান অববাহিকা ও জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিনের স্বাক্ষর রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও সিলেট বিভাগের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়, অরুণাচল ও ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিন দিন রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে।
এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানিও আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুরমা নদীর ছাতক এবং কুশিয়ারা নদীর শেরপুর স্টেশন সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। বর্তমানে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও হরিপুর স্টেশন সতর্কসীমায় রয়েছে। তবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী এক দিন বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় কীর্তনখোলা, লোয়ার-মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় উচ্চ জোয়ার অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।



























