1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিনেমা ‘দ্য অডিসি’ বিশ্বব্যাপী মুক্তি

বিনোদন ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশেও মুক্তি পেল নোলানের ‘দ্য অডিসি’, দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস

ঢাকা, ১৮ জুলাই: বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি পেয়েছে অস্কারজয়ী ব্রিটিশ নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দ্য অডিসি’। গ্রিক কবি হোমারের প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত ১৭২ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নির্মাতাদের দাবি, সিনেমাটি দেখার আদর্শ মাধ্যম আইম্যাক্স ৭০ মিলিমিটার, কারণ শুরু থেকেই এই ফরম্যাটকে মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে পুরো চলচ্চিত্র। বিশাল ক্যানভাস, বাস্তব লোকেশন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নোলানের স্বকীয় গল্প বলার ধরন মিলিয়ে এটিকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্রটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রয় যুদ্ধের বিজয়ী বীর ওডিসিয়ুস। যুদ্ধ শেষে নিজ রাজ্য ইথাকায় ফিরতে তাঁর লেগে যায় দীর্ঘ ১০ বছর। এই যাত্রায় তাকে মোকাবিলা করতে হয় সমুদ্রদেবতা পোসেইডনের অভিশাপ, একচোখা দৈত্য পলিফেমাস, জাদুকরী সির্সি, সাইরেনদের প্রলোভন, পাতালপুরী হেডিস এবং ক্যালিপসোর মতো একের পর এক বিপদের।

দুই দশক আগেই ‘ট্রয়’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন নোলান। পরে তিনি ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজি, ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ডানকার্ক’, ‘টেনেট’ ও ‘ওপেনহাইমার’ নির্মাণ করেন। ‘ওপেনহাইমার’-এর সাফল্যের পর অবশেষে হোমারের মহাকাব্যকে বড় পর্দায় নিয়ে আসেন তিনি।

মূল কাহিনির প্রতি বিশ্বস্ত থেকেও কিছু চরিত্র ও সম্পর্ককে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন নোলান। ওডিসিয়ুসের কুকুর আর্গোস, ছেলে টেলেমেকাস এবং জাদুকরী সির্সির চরিত্রকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি নোলানের স্বভাবসুলভ অরৈখিক গল্প বলার কৌশল ছবিটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

‘দ্য অডিসি’র অন্যতম বড় চমক হলো এতে প্রায় কোনো গ্রিন স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়নি। ওডিসিয়ুসের জাহাজ বাস্তবেই তৈরি করা হয়েছে। একচোখা দৈত্য পলিফেমাসকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ছয় মিটার বাই ছয় মিটার আকারের অ্যানিমেট্রনিক পাপেট, যার সঙ্গে সীমিত কম্পিউটার গ্রাফিকস যুক্ত করা হয়েছে।

মরক্কো, গ্রিস, ইতালি, আইসল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র—এই ছয় দেশে মোট ৯১ দিনে শেষ হয়েছে সিনেমার শুটিং। আইসল্যান্ডে ধারণ করা হয়েছে হেডিসের দৃশ্য, ইতালির লিপারি দ্বীপে সাইরেনদের অংশ এবং ফাভিনিয়ানা দ্বীপে ওডিসিয়ুসের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলো।

চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনবারের অস্কারজয়ী লুডভিগ গোরানসন। প্রচলিত অর্কেস্ট্রার বদলে তিনি ব্যবহার করেছেন ৩৫টি ব্রোঞ্জের গং, প্রাচীন গ্রিক লায়ার, আউলোস বাঁশি এবং সিনথেসাইজার, যা ছবির আবহকে দিয়েছে এক ভিন্নমাত্রার শ্রুতিমাধুর্য।

ওডিসিয়ুস চরিত্রে ম্যাট ডেমন শক্তিশালী অভিনয় উপহার দিয়েছেন। তাঁর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, টম হল্যান্ড, রবার্ট প্যাটিনসন, সামান্থা মর্টন, জেনডায়া, লুপিতা নিয়োঙ্গো, জন লেগুইজামো ও হিমেশ প্যাটেল।

মুক্তির পর থেকেই সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে ‘দ্য অডিসি’। অনেকেই মনে করছেন, এটি চলতি বছরের অন্যতম সেরা সিনেমা হওয়ার পাশাপাশি বক্স অফিসেও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। সমালোচকদের মতে, নোলানের আইম্যাক্স ক্যামেরার ব্যবহার দর্শকদের যেন সরাসরি ওডিসিয়ুসের নৌকায় বসিয়ে দেয়, আর বাস্তব লোকেশন ও সীমিত ভিএফএক্সের সমন্বয়ে ছবিটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিনেমা ‘দ্য অডিসি’ বিশ্বব্যাপী মুক্তি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশেও মুক্তি পেল নোলানের ‘দ্য অডিসি’, দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস

ঢাকা, ১৮ জুলাই: বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি পেয়েছে অস্কারজয়ী ব্রিটিশ নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দ্য অডিসি’। গ্রিক কবি হোমারের প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত ১৭২ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নির্মাতাদের দাবি, সিনেমাটি দেখার আদর্শ মাধ্যম আইম্যাক্স ৭০ মিলিমিটার, কারণ শুরু থেকেই এই ফরম্যাটকে মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে পুরো চলচ্চিত্র। বিশাল ক্যানভাস, বাস্তব লোকেশন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নোলানের স্বকীয় গল্প বলার ধরন মিলিয়ে এটিকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্রটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রয় যুদ্ধের বিজয়ী বীর ওডিসিয়ুস। যুদ্ধ শেষে নিজ রাজ্য ইথাকায় ফিরতে তাঁর লেগে যায় দীর্ঘ ১০ বছর। এই যাত্রায় তাকে মোকাবিলা করতে হয় সমুদ্রদেবতা পোসেইডনের অভিশাপ, একচোখা দৈত্য পলিফেমাস, জাদুকরী সির্সি, সাইরেনদের প্রলোভন, পাতালপুরী হেডিস এবং ক্যালিপসোর মতো একের পর এক বিপদের।

দুই দশক আগেই ‘ট্রয়’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন নোলান। পরে তিনি ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজি, ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ডানকার্ক’, ‘টেনেট’ ও ‘ওপেনহাইমার’ নির্মাণ করেন। ‘ওপেনহাইমার’-এর সাফল্যের পর অবশেষে হোমারের মহাকাব্যকে বড় পর্দায় নিয়ে আসেন তিনি।

মূল কাহিনির প্রতি বিশ্বস্ত থেকেও কিছু চরিত্র ও সম্পর্ককে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন নোলান। ওডিসিয়ুসের কুকুর আর্গোস, ছেলে টেলেমেকাস এবং জাদুকরী সির্সির চরিত্রকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি নোলানের স্বভাবসুলভ অরৈখিক গল্প বলার কৌশল ছবিটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

‘দ্য অডিসি’র অন্যতম বড় চমক হলো এতে প্রায় কোনো গ্রিন স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়নি। ওডিসিয়ুসের জাহাজ বাস্তবেই তৈরি করা হয়েছে। একচোখা দৈত্য পলিফেমাসকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ছয় মিটার বাই ছয় মিটার আকারের অ্যানিমেট্রনিক পাপেট, যার সঙ্গে সীমিত কম্পিউটার গ্রাফিকস যুক্ত করা হয়েছে।

মরক্কো, গ্রিস, ইতালি, আইসল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র—এই ছয় দেশে মোট ৯১ দিনে শেষ হয়েছে সিনেমার শুটিং। আইসল্যান্ডে ধারণ করা হয়েছে হেডিসের দৃশ্য, ইতালির লিপারি দ্বীপে সাইরেনদের অংশ এবং ফাভিনিয়ানা দ্বীপে ওডিসিয়ুসের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলো।

চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনবারের অস্কারজয়ী লুডভিগ গোরানসন। প্রচলিত অর্কেস্ট্রার বদলে তিনি ব্যবহার করেছেন ৩৫টি ব্রোঞ্জের গং, প্রাচীন গ্রিক লায়ার, আউলোস বাঁশি এবং সিনথেসাইজার, যা ছবির আবহকে দিয়েছে এক ভিন্নমাত্রার শ্রুতিমাধুর্য।

ওডিসিয়ুস চরিত্রে ম্যাট ডেমন শক্তিশালী অভিনয় উপহার দিয়েছেন। তাঁর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, টম হল্যান্ড, রবার্ট প্যাটিনসন, সামান্থা মর্টন, জেনডায়া, লুপিতা নিয়োঙ্গো, জন লেগুইজামো ও হিমেশ প্যাটেল।

মুক্তির পর থেকেই সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে ‘দ্য অডিসি’। অনেকেই মনে করছেন, এটি চলতি বছরের অন্যতম সেরা সিনেমা হওয়ার পাশাপাশি বক্স অফিসেও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। সমালোচকদের মতে, নোলানের আইম্যাক্স ক্যামেরার ব্যবহার দর্শকদের যেন সরাসরি ওডিসিয়ুসের নৌকায় বসিয়ে দেয়, আর বাস্তব লোকেশন ও সীমিত ভিএফএক্সের সমন্বয়ে ছবিটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।