সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনা,ফরিদপুরের এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের এক পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার মেজ ছেলে তাজবিক (১৭) এবং ছোট মেয়ে সাদাফ (১৫)। এ ঘটনায় রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম শফিক ও বড় ছেলে নাবিল প্রাণে বেঁচে গেলেও তারা গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রিয়াদের বাসা থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সামনের আসনে তার পাশে বসেছিলেন বড় ছেলে নাবিল। আর পেছনের আসনে ছিলেন স্ত্রী রিনা, মেজ ছেলে তাজবিক ও ছোট মেয়ে সাদাফ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদ থেকে আনুমানিক ২০০ কিলোমিটার দূরে পৌঁছানোর পর তাদের গাড়িটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরিবারের ধারণা, পেছন থেকে একটি ভারী যানবাহন তাদের গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দিলে পেছনের সিটে বসা তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে সামনের আসনে থাকা শফিকুল ইসলাম শফিক ও তার বড় ছেলে নাবিল প্রাণে রক্ষা পান।
নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাস করছিলেন। তার স্বামী সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে কর্মরত।
নিহতের ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ গণমাধ্যমকে জানান, মেজ ছেলে তাজবিক সম্প্রতি ‘এ’ লেভেল শেষ করে ফিনল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। আর মাত্র এক সপ্তাহ পর তার ফিনল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল। সে দেশ ছাড়ার আগে পরিবারের সবাই একসঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, পরিবারের বড় ছেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে সাদাফ এবার ও-লেভেল পরীক্ষার্থী ছিল।
দুর্ঘটনার বিষয়ে মুরাদ বলেন, পরিবারের ধারণা অনুযায়ী পেছন থেকে একটি বড় যানবাহনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে পেছনের সিটে থাকা তিনজনই প্রাণ হারান।
তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থল রিয়াদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় স্বজনদের সেখানে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
বর্তমানে শফিকুল ইসলাম শফিক ও তার বড় ছেলে শারীরিকভাবে আশঙ্কামুক্ত থাকলেও স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারানোর শোকে তারা গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পরিবার।




















