দিল্লি পেরিয়ে এবার পুরো ভারত, শুক্রবার বিক্ষোভের ডাক সিজেপির
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে চলমান ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল শুক্রবার দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দলটি তাদের সমর্থক, ছাত্রসংসদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিজ নিজ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।
সিজেপি জানিয়েছে, বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পড়ে শোনাতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।
জিতেন্দ্র সিং বলেন, আন্দোলনকারীরা চাইলে আলোচনার জন্য বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডার বাসভবন অথবা কার্যালয়ে যেতে পারেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, দিল্লিতে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী দিল্লির বাইরে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।
বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশের দাবি, মার্চ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় আয়োজকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং স্মারকলিপির নমুনাও প্রকাশ করেছে সিজেপি।
নির্দেশিকায় নির্ধারিত স্থানে সমাবেশ, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে আহতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও গতি পায়।
সূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে


























