কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গোপালগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মরণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদন, র্যালি এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। দিবসটি ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা বিএনপি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পর্যায়ক্রমে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. কে এম বাবর বলেন, জুলাই শহীদ গণহত্যা দিবস জাতির জন্য আত্মসমালোচনা ও শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। অতীতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের অধিকার যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশের গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং এতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নেন।
এদিকে দিবসকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সরকারি স্থাপনা এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহলের ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবউল্লাহ বলেন, দিবসটি উপলক্ষে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।



















