1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাল দলিল কাণ্ডে কোটালীপাড়ায় তোলপাড়, সাময়িক বরখাস্ত দুই দলিল লেখক

ছাইম খান গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই দলিল লেখক হলেন উপজেলার বংকুরা গ্রামের নাসির উদ্দিন শেখ এবং কাঠি গ্রামের মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দলিল প্রস্তুত ও নিবন্ধনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করা হলে দুই দলিল লেখকের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফের দাবি, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের আমেনা বেগম প্রয়োজনীয় দলিল ও পর্চাসহ তার কাছে আসেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, জমা দেওয়া কাগজপত্র জাল ছিল। এ ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব ইতোমধ্যে লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সেগুলোতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে। এরপর জাল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনিও লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে নাম আসা আমেনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও দলিল লেখকের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে ঘিরে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাল দলিল নিবন্ধনের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, এই চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

জাল দলিল কাণ্ডে কোটালীপাড়ায় তোলপাড়, সাময়িক বরখাস্ত দুই দলিল লেখক

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:১৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই দলিল লেখক হলেন উপজেলার বংকুরা গ্রামের নাসির উদ্দিন শেখ এবং কাঠি গ্রামের মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দলিল প্রস্তুত ও নিবন্ধনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করা হলে দুই দলিল লেখকের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফের দাবি, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের আমেনা বেগম প্রয়োজনীয় দলিল ও পর্চাসহ তার কাছে আসেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, জমা দেওয়া কাগজপত্র জাল ছিল। এ ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব ইতোমধ্যে লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সেগুলোতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে। এরপর জাল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনিও লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে নাম আসা আমেনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও দলিল লেখকের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে ঘিরে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাল দলিল নিবন্ধনের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, এই চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।