শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, স্কুল বন্ধ ঘোষণা
শ্রীলঙ্কায় টানা ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক বাড়িঘর এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির চা উৎপাদনকারী পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অঞ্চলটি এখনো গত নভেম্বরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৬৪০ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে দুটি বাড়ি চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের কারণে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিরু টিভি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সৈন্যরা পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক অতিক্রম করে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করছেন।
শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলের নুয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লা জেলা পাহাড়ি ও খাড়া ভূখণ্ডে অবস্থিত। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের স্যাঁতসেঁতে ঢাল ধসে পড়ায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর স্কুল কবে পুনরায় খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র: আল জাজিরা























