1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই শতাব্দীরও বেশি ইতিহাস বহনকারী নওগাঁর অন্যতম প্রাচীন পত্নীতলা থানা

মহাদেবপুর নওগাঁ প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৬

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন থানা। ব্রিটিশ আমলে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার সূচনাকালে প্রতিষ্ঠিত এই থানার ইতিহাস দুই শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রশাসনিক বিবর্তন, সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার কারণে পত্নীতলা থানা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের শুরুতে ১৭৯২ সালের ৭ নভেম্বর বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীনে থানা বা পুলিশ প্রশাসনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮০৭ সালে বর্তমান পত্নীতলা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এটি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ১৯১১–১২ সালের দিকে থানার উত্তর-পূর্বাংশ নিয়ে ধামইরহাট থানা গঠিত হয়। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী পত্নীতলা থানা বগুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ১৯৫০ সালে এটি নওগাঁ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৮৩ সালে পুলিশি থানাকে ভিত্তি করে পত্নীতলা উপজেলা গঠিত হয়।

বর্তমানে পত্নীতলা উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। থানাকে কেন্দ্র করেই সময়ের সঙ্গে গড়ে উঠেছে বর্তমান নজিপুর শহর।

ঐতিহাসিক দিক থেকেও পত্নীতলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবস্থিত ঐতিহাসিক দিবর দিঘী ও দিব্যক জয়স্তম্ভ, যা একাদশ শতাব্দীর কৈবর্ত বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসবিদদের মতে, বিদ্রোহের নেতা দিব্যকের বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশাল দিঘী খনন এবং গ্রানাইট পাথরের জয়স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছিল।

সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, পত্নীতলা উপজেলায় প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের বসবাস, যার প্রায় অর্ধেক নারী। জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর পাশাপাশি প্রায় ১৭–১৮ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে ওরাওঁ, সাঁওতাল ও মুন্ডা সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য।

উপজেলার উত্তর সীমান্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সঙ্গে সংযুক্ত। নিরমইল ও শিহাড়া ইউনিয়ন সরাসরি আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হয়। এছাড়াও ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, মারামারি, মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবি এবং পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও নওগাঁ জেলা পুলিশ এবং পত্নীতলা থানা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

দুই শতাব্দীরও বেশি ইতিহাস বহনকারী নওগাঁর অন্যতম প্রাচীন পত্নীতলা থানা

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
১৬

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন থানা। ব্রিটিশ আমলে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার সূচনাকালে প্রতিষ্ঠিত এই থানার ইতিহাস দুই শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রশাসনিক বিবর্তন, সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার কারণে পত্নীতলা থানা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের শুরুতে ১৭৯২ সালের ৭ নভেম্বর বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীনে থানা বা পুলিশ প্রশাসনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮০৭ সালে বর্তমান পত্নীতলা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এটি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ১৯১১–১২ সালের দিকে থানার উত্তর-পূর্বাংশ নিয়ে ধামইরহাট থানা গঠিত হয়। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী পত্নীতলা থানা বগুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ১৯৫০ সালে এটি নওগাঁ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৮৩ সালে পুলিশি থানাকে ভিত্তি করে পত্নীতলা উপজেলা গঠিত হয়।

বর্তমানে পত্নীতলা উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। থানাকে কেন্দ্র করেই সময়ের সঙ্গে গড়ে উঠেছে বর্তমান নজিপুর শহর।

ঐতিহাসিক দিক থেকেও পত্নীতলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবস্থিত ঐতিহাসিক দিবর দিঘী ও দিব্যক জয়স্তম্ভ, যা একাদশ শতাব্দীর কৈবর্ত বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসবিদদের মতে, বিদ্রোহের নেতা দিব্যকের বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশাল দিঘী খনন এবং গ্রানাইট পাথরের জয়স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছিল।

সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, পত্নীতলা উপজেলায় প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের বসবাস, যার প্রায় অর্ধেক নারী। জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর পাশাপাশি প্রায় ১৭–১৮ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে ওরাওঁ, সাঁওতাল ও মুন্ডা সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য।

উপজেলার উত্তর সীমান্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সঙ্গে সংযুক্ত। নিরমইল ও শিহাড়া ইউনিয়ন সরাসরি আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হয়। এছাড়াও ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, মারামারি, মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবি এবং পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও নওগাঁ জেলা পুলিশ এবং পত্নীতলা থানা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।