চৌদ্দগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত এক যুবক মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাই
অপরাধ করে একজন অপরাধী যদি একের পর পার পেয়ে যায়, তাহলে অপরাধ বাড়বেই। কিন্তু কমবেনা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট বাজারে কিছু দিন পর পর একটা পর একটা ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসী। প্রশাসনের দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরেই ধারাবাহিকতায় মুন্সীরহাট ইউনিয়ন যুগিরহাট গ্রামের প্রবাসীর সন্তান মোঃ শরীফ হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এঘটনায় মুন্সীরহাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গতকাল ৭ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যার পর মুন্সীরহাট পশ্চিম বাজার মসজিদ মার্টেকের তিন তলা ভবনের ছাদের উপর এঘটনা ঘটে। জানা গেছে, উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক যুগিরহাট গ্রামের অধিবাসী মোঃ এয়াকুব মিয়ার ছেলে শরীফ হোসেনকে মোবাইল ছিনতাইকারী সন্দেহে, একই ইউনিয়নের বারাইশ গ্রামের একদল যুবক অর্তকিত হামলা চালায়। এসময় হাতে অস্ত্র থাকা বারাইশ গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মৃত শুক্কুল মিয়ার ছেলে মাঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে উপস্থিত সন্ত্রাসীরা, কোন কথা বার্তা ছাড়াই শরীফ হোসেনকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা রক্তাক্ত জখমী শরীফ হোসেনকে জিম্মি করে ভবনের ছাঁদ থেকে নিচে নামিয়ে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে অপহরন করার জন্য বারাইশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। মুন্সীরহাট নবগ্রাম রাস্তার পথিমধ্যে বারাইশ পশ্চিম মাথায় ঈদগাহ নামকস্থানে পৌছলে, সন্ত্রাসীরা আহত শরীফের সাথে থাকা একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ফেলে দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত শরীফ হোসেনকে দেখতে পেয়ে দ্রুত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করায়। রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নিয়ে ভর্তি করায়। স্থানীয়রা জানায়, শাস্তির অভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি থাকলে সমাজে অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। অপরাধ করেও পার পেয়ে গেলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়। নৈতিক শিক্ষার অভাব ও বেকারত্ব তরুণদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী। এবিষয়ে প্রবাসী বিএনপির নেতা ইয়াকুব মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার নিরপরাধ ছেলেকে অমানুষিকভাবে পিটিয়ে আহত করে। তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসন সহ সকল মহলের কাছে এঘটনার বিচার চাই। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই। আমি মনে করি সুশাসনের অভাব, সমাজে মূল্য বোধের অবক্ষয় এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকায়নের যে প্রভাব দেশে পড়েছে, তার ভাল দিকগুলোর পরিবর্তে খারাপ দিকগুলোর প্রতি আকর্ষণের কারনে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলেছে। অপরাধী এবং অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার, বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।























