1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় কমছে না সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম

মোঃ আব্দুল আলীম, জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া ।
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার বাজারে কমছে না সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। বর্তমানে অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি মাছ ও ডিমের দামও চড়া। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
শনিবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি। ক্রেতাদের অভিযোগ, একদিকে আয় বাড়ছে না, অন্যদিকে প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়েই চলেছে।
ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি ও মাছ কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস ধরে অধিকাংশ সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তারা অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন।
জানা যায়, জুলাইয়ের টানা বৃষ্টিতে বগুড়ায় শত শত হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে চলে যায়।
এতে প্রায় ৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে সবজি, পাট ও আমনের বীজতলা। জেলার প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবজির ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ প্রায় ১৩৬ হেক্টর। ফলে মাঠে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয়ে যাওয়া সবজির ঘাটতি পূরণে দূরবর্তী এলাকা থেকে পণ্য আনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
এতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচও খুচরা দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
শনিবার বগুড়ার বিভিন্ন বাজারে দেশি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। শুকনা মরিচের দাম ছিল ৪০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি। এছাড়া আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙে/তরী ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বইকচু ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৪০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি ছোট-বড় মুরগি ২৯০ টাকা এবং লেয়ার ও লেয়ার পাকিস্তানি মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার তুলনামূলক কম খরচে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ফার্মের ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে ফার্মের মুরগি ডিম প্রতি হালি ৪৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। সবজির পর মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বাজারে প্রকারভেদে ইলিশ প্রতি কেজি ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় বিগ্রেডকার্প ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই আগের তুলনায় কম পরিমাণে মাছ কিনছেন। বাজারে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে একটি পরিবারের সাপ্তাহিক বাজারের বড় একটি অংশ শুধু মাছ-মাংস, ডিম ও সবজি কিনতেই চলে যাচ্ছে।
বাজার করতে আসা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে দেখি কোনো না কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে। একসঙ্গে সবকিছু কেনা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. খোকন মিয়া জানান, সবজির সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:০৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় কমছে না সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম

আপডেট সময় : ০১:২৪:০৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বগুড়ার বাজারে কমছে না সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। বর্তমানে অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি মাছ ও ডিমের দামও চড়া। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
শনিবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি। ক্রেতাদের অভিযোগ, একদিকে আয় বাড়ছে না, অন্যদিকে প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়েই চলেছে।
ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি ও মাছ কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস ধরে অধিকাংশ সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তারা অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন।
জানা যায়, জুলাইয়ের টানা বৃষ্টিতে বগুড়ায় শত শত হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে চলে যায়।
এতে প্রায় ৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে সবজি, পাট ও আমনের বীজতলা। জেলার প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবজির ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ প্রায় ১৩৬ হেক্টর। ফলে মাঠে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয়ে যাওয়া সবজির ঘাটতি পূরণে দূরবর্তী এলাকা থেকে পণ্য আনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
এতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচও খুচরা দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
শনিবার বগুড়ার বিভিন্ন বাজারে দেশি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। শুকনা মরিচের দাম ছিল ৪০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি। এছাড়া আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙে/তরী ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বইকচু ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৪০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি ছোট-বড় মুরগি ২৯০ টাকা এবং লেয়ার ও লেয়ার পাকিস্তানি মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার তুলনামূলক কম খরচে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ফার্মের ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে ফার্মের মুরগি ডিম প্রতি হালি ৪৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। সবজির পর মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বাজারে প্রকারভেদে ইলিশ প্রতি কেজি ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় বিগ্রেডকার্প ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই আগের তুলনায় কম পরিমাণে মাছ কিনছেন। বাজারে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে একটি পরিবারের সাপ্তাহিক বাজারের বড় একটি অংশ শুধু মাছ-মাংস, ডিম ও সবজি কিনতেই চলে যাচ্ছে।
বাজার করতে আসা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে দেখি কোনো না কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে। একসঙ্গে সবকিছু কেনা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. খোকন মিয়া জানান, সবজির সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।