1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৬

“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য সড়ক র‍্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়।

সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন, সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ঝুটন চন্দ্র সরকার এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিয়াম ডা. কুদরত উল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বিলাল।

আলোচনা সভায় স্থানীয় মৎস্যচাষীদের পক্ষে বক্তব্য দেন আব্দুস শুক্কুর (নেতা শুক্কুর), মঈন উদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও শফিকুর রহমান (আর্মি শফিক)। তারা জৈন্তাপুরে মৎস্যচাষের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

মৎস্যচাষীরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যচাষের ঘাট ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি খাসজমি দখলমুক্ত করা এবং মৎস্য ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানান তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব হলো বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সমস্যা ও চাহিদাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা। মৎস্যচাষীদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

খাল পুনঃখননের বিষয়ে ইউএনও বলেন, কোনো খাল পুনঃখননের জন্য তালিকা প্রণয়ন, প্রকল্প তৈরি এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে এ ধরনের কোনো তালিকা পাঠানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া খাসজমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করারও আশ্বাস দেন তিনি।
কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে সুনন্দা রায় বলেন, উপজেলায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। মৎস্যচাষ ও কৃষিপণ্যের সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্যখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. সেলিম আহমদ ও মো. আব্দুস শুক্কুরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন, জৈন্তাপুরে মৎস্যচাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলাশয় সংরক্ষণ এবং সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে মৎস্যখাত স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৎস্যচাষীদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও দাবিগুলো প্রশাসনের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি জৈন্তাপুরে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন

আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
১৬

“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য সড়ক র‍্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়।

সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন, সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ঝুটন চন্দ্র সরকার এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিয়াম ডা. কুদরত উল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বিলাল।

আলোচনা সভায় স্থানীয় মৎস্যচাষীদের পক্ষে বক্তব্য দেন আব্দুস শুক্কুর (নেতা শুক্কুর), মঈন উদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও শফিকুর রহমান (আর্মি শফিক)। তারা জৈন্তাপুরে মৎস্যচাষের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

মৎস্যচাষীরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যচাষের ঘাট ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি খাসজমি দখলমুক্ত করা এবং মৎস্য ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানান তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব হলো বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সমস্যা ও চাহিদাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা। মৎস্যচাষীদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

খাল পুনঃখননের বিষয়ে ইউএনও বলেন, কোনো খাল পুনঃখননের জন্য তালিকা প্রণয়ন, প্রকল্প তৈরি এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে এ ধরনের কোনো তালিকা পাঠানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া খাসজমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করারও আশ্বাস দেন তিনি।
কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে সুনন্দা রায় বলেন, উপজেলায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। মৎস্যচাষ ও কৃষিপণ্যের সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্যখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. সেলিম আহমদ ও মো. আব্দুস শুক্কুরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন, জৈন্তাপুরে মৎস্যচাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলাশয় সংরক্ষণ এবং সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে মৎস্যখাত স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৎস্যচাষীদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও দাবিগুলো প্রশাসনের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি জৈন্তাপুরে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।