‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’পদচিহ্নের আয়োজনে বাকৃবির ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পদচিহ্নের আয়োজন ‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’। শরতের আগমনের সাথে বাকৃবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে পদচিহ্নের এই বিশেষ আয়োজন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালীপ্যাডে এ আয়োজন করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রাণবন্ত ফ্ল্যাশ মব। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে হ্যালীপ্যাড প্রাঙ্গণ। পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।শরতের স্নিগ্ধতা, প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য ও তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্যকে ধারণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান, নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখানে রয়েছে সুগন্ধি, জুয়েলারিরসহ বিভিন্ন খাবারের মোট ৬টি স্টল।

দীর্ঘ বিরতির পর এমন বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না। তাই এ ধরনের আয়োজন আমাদের একঘেয়েমি দূর করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।
মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এমন আয়োজন ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আশা করি ভবিষ্যতে পদচিহ্নসহ অন্যান্য সংগঠন আরও বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
পদচিহ্নের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুর হোসেন নীরব বলেন, এই শরতের হাত ধরেই আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি ও আনন্দের আবহ আবার ফিরে আসুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রায় দুই বছর পর পদচিহ্নের পক্ষ থেকে এত বড় পরিসরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন শরতের শুরু। শরতের শুভ্র কাশফুল, নীল আকাশ ও সাদা মেঘের সৌন্দর্যকে সামনে রেখেই আমরা অনুষ্ঠানের নাম ‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ রেখেছি। শরতের এই স্নিগ্ধতার সঙ্গে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসকে মিলিয়ে একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পদচিহ্নের সাবেক সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আয়োজন সফল করার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি পদচিহ্নের অ্যালামনাইদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে এবং আরও ভালো ভালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সক্ষম হব।























