1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা, ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৬৩

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসা দেশের বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষক নেতাদের দাবি, বছরের পর বছর বিনা বেতনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান করে আসছেন তারা। সরকারি সুযোগ-সুবিধা না থাকায় একদিকে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, অন্যদিকে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপবৃত্তি ও মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী কমে গিয়ে অনেক বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন। অনেকে অবসরে চলে গেছেন, আবার অনেকের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সও পেরিয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন করে চাকরি পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।

জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেক শিক্ষককে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনি, অটোরিকশা চালানো কিংবা রাতে পার্টটাইম নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতে হচ্ছে। এতে তাদের পরিবারের ব্যয় মেটানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে তারা বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তারা টানা ৩১ দিন আন্দোলন করেন। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামানের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও দাবি তাদের।

শিক্ষক নেতারা আরও জানান, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি কনসালটেশন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে শিক্ষা উপদেষ্টা, সচিব, উপসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের বিষয়ে সুপারিশ করা হয় বলে দাবি তাদের।

তাদের আরও দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮০ জন শিক্ষকের বর্তমান সরকারের সময়ে ১ অক্টোবর যোগদানের বিষয়টি রয়েছে। এ অবস্থায় বাদ পড়া ৫ হাজার বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষককেও জাতীয়করণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বছরে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি

শিক্ষক নেতাদের হিসাবে, প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণে সরকারের বছরে আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তাদের মতে, এই অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে থাকা শিক্ষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।

তারা বলেন, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়বে এবং ঝরে পড়ার হারও কমতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক শিক্ষক বয়সের কারণে এখন অন্য কোথাও চাকরির সুযোগও হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সরকারের কাছে কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না। দীর্ঘদিন ধরে যে দায়িত্ব পালন করে আসছি, তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা চাই। ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।”

শিক্ষক নেতাদের দাবি, বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে ৫৩৪টি বিদ্যালয় রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এসব বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালুর উদ্যোগের মাধ্যমে অতীতে বহু শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:২১ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা, ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় : ০৮:১০:২১ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
৬৩

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসা দেশের বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষক নেতাদের দাবি, বছরের পর বছর বিনা বেতনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান করে আসছেন তারা। সরকারি সুযোগ-সুবিধা না থাকায় একদিকে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, অন্যদিকে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপবৃত্তি ও মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী কমে গিয়ে অনেক বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন। অনেকে অবসরে চলে গেছেন, আবার অনেকের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সও পেরিয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন করে চাকরি পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।

জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেক শিক্ষককে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনি, অটোরিকশা চালানো কিংবা রাতে পার্টটাইম নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতে হচ্ছে। এতে তাদের পরিবারের ব্যয় মেটানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে তারা বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তারা টানা ৩১ দিন আন্দোলন করেন। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামানের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও দাবি তাদের।

শিক্ষক নেতারা আরও জানান, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি কনসালটেশন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে শিক্ষা উপদেষ্টা, সচিব, উপসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের বিষয়ে সুপারিশ করা হয় বলে দাবি তাদের।

তাদের আরও দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮০ জন শিক্ষকের বর্তমান সরকারের সময়ে ১ অক্টোবর যোগদানের বিষয়টি রয়েছে। এ অবস্থায় বাদ পড়া ৫ হাজার বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষককেও জাতীয়করণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বছরে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি

শিক্ষক নেতাদের হিসাবে, প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণে সরকারের বছরে আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তাদের মতে, এই অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে থাকা শিক্ষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।

তারা বলেন, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়বে এবং ঝরে পড়ার হারও কমতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক শিক্ষক বয়সের কারণে এখন অন্য কোথাও চাকরির সুযোগও হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সরকারের কাছে কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না। দীর্ঘদিন ধরে যে দায়িত্ব পালন করে আসছি, তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা চাই। ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।”

শিক্ষক নেতাদের দাবি, বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে ৫৩৪টি বিদ্যালয় রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এসব বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালুর উদ্যোগের মাধ্যমে অতীতে বহু শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে বাদ পড়া ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং প্রায় ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।