দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় সার সংকটে কৃষকদের চরম ভোগান্তি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা সার সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারের কাছে গেলেও চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া হচ্ছে না। কৃষকরা প্রশ্ন তুলছেন—তাহলে তাঁরা কোথায় যাবেন?
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে ৭ নং দাউদপুরসহ অন্যান্য এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, চলতি আমন মৌসুমে জমিতে সার দেওয়ার সময় চলে এসেছে। কিন্তু ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার কোনোভাবেই পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা দোকানগুলোতে সারের মজুদ নেই বললেই চলে। আর সরকারি ডিলারদের কাছে গেলে তাঁরা ‘স্টক নেই’ বা ‘সীমিত সরবরাহ’ বলে চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম সার দিচ্ছেন। অনেকেই অতিরিক্ত দামে কালোবাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পেয়ে জমি প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও সার দিতে পারছেন না। ফলে তাঁরা হতাশ ও উদ্বিগ্ন। এভাবে চলতে থাকলে আমন ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আমন মৌসুমে টিএসপি সারের তীব্র সংকটের খবর গণমাধ্যমে এসেছে। কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত দামেও সার পাচ্ছেন না, অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে। ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ সীমিত থাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগও উঠেছে। নবাবগঞ্জে অতীতে সার পাচারের ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের দাবি—অবিলম্বে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে এবং কালোবাজারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে কৃষকরা ফসল হারাবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যবস্থা বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কৃষকরা দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন যদি অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে সার বিতরণ নিশ্চিত না করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
কৃষকদের এই ভোগান্তি শুধু এক-দুই ইউনিয়নের নয়—গোটা নবাবগঞ্জ উপজেলার বাস্তবতা। সরকারি বরাদ্দ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং সময়মতো বিতরণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।





















