1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে আকস্মিক বন্যা: পাহাড়ের বনে সারি সারি গণকবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৫১

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন এখন পরিণত হয়েছে পরিচয়হীন মরদেহের অস্থায়ী কবরস্থানে। আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের পর উদ্ধার হওয়া যেসব মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোই সেখানে দাফন করছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অসংখ্য মানুষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর চিতওয়ানের দেবঘাট বনে এসব মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত রসুয়া অঞ্চলের উপত্যকাগুলো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে এই বনাঞ্চল।

কয়েক দিন আগেও দেবঘাটের বনপথ ছিল মানুষের হাঁটাচলার একটি নিরিবিলি জায়গা। এখন সেখানেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী গণকবর। বন্যার পানিতে ভেসে আসা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর অনেকগুলো এতটাই পচে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিতওয়ানের ভারতপুরের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আর্যাল রয়টার্সকে বলেন, মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

শনিবার দেবঘাটের বনাঞ্চলে ৯৬টি পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রোববার আরও শতাধিক মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা ছিল। একই সময়ে নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

মরদেহ শনাক্তের কাজে প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। তারা মরদেহের তথ্য নথিভুক্ত, ছবি সংগ্রহ, স্বজনদের শনাক্তকরণে সহায়তা এবং দাফনের প্রস্তুতির কাজ করছেন।

প্রতিটি মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও বিস্তারিতভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কবরের ওপর ও মাটির নিচে শনাক্তকরণ চিহ্ন রাখা হচ্ছে এবং প্রতিটি কবরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নথিভুক্ত করা হচ্ছে। কোনো মরদেহ পরবর্তী সময়ে শনাক্ত হলে যাতে সেটি খুঁজে বের করা যায়, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পরিচয়হীন মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। সরকারি নথি বা জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে এসব দেহাবশেষ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

মরদেহ শনাক্তকরণে নেপালের সঙ্গে ভারত ও চীনের দলও কাজ করছে। ভারত ইতিমধ্যে একটি ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে। দলটি নেপালি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে কাজ করবে। চীনের একটি দলের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে নেপাল।

হাসপাতালেও মরদেহের চাপ

চিতওয়ানের ভারতপুর হাসপাতালেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের একটি অস্থায়ী মর্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহ রাখা হচ্ছে। প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা থাকলেও সেখানে প্রায় ১২৫টি মরদেহ রাখা হয়েছিল। বন্যার পানিতে কয়েক দিন পড়ে থাকায় অনেক মরদেহ পচে গেছে।

মরদেহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা পরিদর্শক অনিল থাপা রয়টার্সকে বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের অর্ধেকের বেশি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। অনেক মরদেহের মুখও চেনার উপায় নেই।

হাসপাতালের কয়েকশ মিটার দূরের চিতওয়ান এক্সপো সেন্টারেও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মানুষের ভিড় বাড়ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি দেখে স্বজনদের শনাক্ত করার সুযোগ দিতে সেখানে লোকজন অপেক্ষা করছেন। একটি হলের বাইরে দুই শতাধিক মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

অনেকেই ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে সেখানে এসেছেন। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, আগের দিন সেখানে পৌঁছালেও এখনো হলের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায়নি তারা।

এদিকে মরদেহ শনাক্তের অপেক্ষায় থাকা আরেকটি পুরোনো একতলা ভবনও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের বাইরে নেপাল রেড ক্রসের সহায়তা ডেস্ক ও পুলিশের নিবন্ধনকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

মরদেহ পচে যাওয়ার গতি কমাতে সেখানে ড্রাই আইস, এয়ার কন্ডিশনার ও একটি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কুলিং ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। ভবনের ভেতরে বাঙ্ক বেডের ওপর সারি করে রাখা হয়েছে মরদেহের ব্যাগ।

এর মধ্যেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি গাড়িতে করে একসঙ্গে ১৩টি মরদেহ অস্থায়ী মর্গে আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে সেখানে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সও অবস্থান করছিল।

মরদেহ আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের একটাই আশা—উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে যেন নিখোঁজ প্রিয়জনকে শনাক্ত করা যায়।

গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। দুর্যোগের পর শত শত মানুষ নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

নেপালে আকস্মিক বন্যা: পাহাড়ের বনে সারি সারি গণকবর

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
৫১

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন এখন পরিণত হয়েছে পরিচয়হীন মরদেহের অস্থায়ী কবরস্থানে। আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের পর উদ্ধার হওয়া যেসব মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোই সেখানে দাফন করছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অসংখ্য মানুষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর চিতওয়ানের দেবঘাট বনে এসব মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত রসুয়া অঞ্চলের উপত্যকাগুলো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে এই বনাঞ্চল।

কয়েক দিন আগেও দেবঘাটের বনপথ ছিল মানুষের হাঁটাচলার একটি নিরিবিলি জায়গা। এখন সেখানেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী গণকবর। বন্যার পানিতে ভেসে আসা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর অনেকগুলো এতটাই পচে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিতওয়ানের ভারতপুরের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আর্যাল রয়টার্সকে বলেন, মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

শনিবার দেবঘাটের বনাঞ্চলে ৯৬টি পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রোববার আরও শতাধিক মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা ছিল। একই সময়ে নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

মরদেহ শনাক্তের কাজে প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। তারা মরদেহের তথ্য নথিভুক্ত, ছবি সংগ্রহ, স্বজনদের শনাক্তকরণে সহায়তা এবং দাফনের প্রস্তুতির কাজ করছেন।

প্রতিটি মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও বিস্তারিতভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কবরের ওপর ও মাটির নিচে শনাক্তকরণ চিহ্ন রাখা হচ্ছে এবং প্রতিটি কবরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নথিভুক্ত করা হচ্ছে। কোনো মরদেহ পরবর্তী সময়ে শনাক্ত হলে যাতে সেটি খুঁজে বের করা যায়, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পরিচয়হীন মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। সরকারি নথি বা জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে এসব দেহাবশেষ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

মরদেহ শনাক্তকরণে নেপালের সঙ্গে ভারত ও চীনের দলও কাজ করছে। ভারত ইতিমধ্যে একটি ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে। দলটি নেপালি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে কাজ করবে। চীনের একটি দলের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে নেপাল।

হাসপাতালেও মরদেহের চাপ

চিতওয়ানের ভারতপুর হাসপাতালেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের একটি অস্থায়ী মর্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহ রাখা হচ্ছে। প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা থাকলেও সেখানে প্রায় ১২৫টি মরদেহ রাখা হয়েছিল। বন্যার পানিতে কয়েক দিন পড়ে থাকায় অনেক মরদেহ পচে গেছে।

মরদেহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা পরিদর্শক অনিল থাপা রয়টার্সকে বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের অর্ধেকের বেশি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। অনেক মরদেহের মুখও চেনার উপায় নেই।

হাসপাতালের কয়েকশ মিটার দূরের চিতওয়ান এক্সপো সেন্টারেও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মানুষের ভিড় বাড়ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি দেখে স্বজনদের শনাক্ত করার সুযোগ দিতে সেখানে লোকজন অপেক্ষা করছেন। একটি হলের বাইরে দুই শতাধিক মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

অনেকেই ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে সেখানে এসেছেন। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, আগের দিন সেখানে পৌঁছালেও এখনো হলের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায়নি তারা।

এদিকে মরদেহ শনাক্তের অপেক্ষায় থাকা আরেকটি পুরোনো একতলা ভবনও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের বাইরে নেপাল রেড ক্রসের সহায়তা ডেস্ক ও পুলিশের নিবন্ধনকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

মরদেহ পচে যাওয়ার গতি কমাতে সেখানে ড্রাই আইস, এয়ার কন্ডিশনার ও একটি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কুলিং ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। ভবনের ভেতরে বাঙ্ক বেডের ওপর সারি করে রাখা হয়েছে মরদেহের ব্যাগ।

এর মধ্যেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি গাড়িতে করে একসঙ্গে ১৩টি মরদেহ অস্থায়ী মর্গে আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে সেখানে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সও অবস্থান করছিল।

মরদেহ আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের একটাই আশা—উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে যেন নিখোঁজ প্রিয়জনকে শনাক্ত করা যায়।

গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। দুর্যোগের পর শত শত মানুষ নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

সূত্র: রয়টার্স