ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলন ও স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবিতে অর্ধসহস্রাধিক মানুষের মানববন্ধন
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় কয়লা মজুদ এলাকার প্রস্তাবিত খনির প্রথম কয়লা উত্তোলনস্থল হিসেবে পরিচিত বৈগ্রাম চৌরাস্তা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‘ফুলবাড়ী কয়লাখনি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার অর্ধসহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে কয়লাখনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রকল্প এলাকার মো. জাকারিয়া নয়ন, মো. আব্দুল কাদের, মো. আব্দুল আজিজ ও মো. বিপ্লব হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের আলোকে ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, উন্নত আবাসন ও স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যে মো. জাকারিয়া নয়ন বলেন, ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলন শুরু করা প্রয়োজন। তবে খনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফুলবাড়ী কয়লাখনি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দিতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়নের বৈগ্রাম এলাকায় ফুলবাড়ী কয়লাখনির প্রস্তাবিত মুখ রয়েছে বলে জানা গেছে। এখান থেকেই কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লার মজুদ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সকাল ১০টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৮টার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ বৈগ্রাম চৌরাস্তা মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই মানববন্ধনস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঘটে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা, আয়-রোজগারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কয়লাখনির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবিকার নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হবে।
























