1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর আমে মুগ্ধ জাপানি ব্যবসায়ীরা, বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহ

নওগাঁ প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর পোরশায় একটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন আম উৎপাদনে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার দুপুরে পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া এলাকায় অবস্থিত ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম নামের আমবাগানটি পরিদর্শন করেন জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এ সময় তারা বাগানের বিভিন্ন জাতের আম, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং রপ্তানি-উপযোগী উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত সুস্বাদু ও নিরাপদ আম জাপানের বাজারে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে তারা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর বিভিন্ন আমবাগান পরিদর্শন করছেন। সব প্রক্রিয়া সন্তোষজনক হলে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম আমদানি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নওগাঁর আমের স্বাদ ও গুণগত মান সম্পর্কে তারা ইতোমধ্যে জেনেছেন। বিশেষ করে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে উৎপাদিত আম দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের আম রপ্তানিকারক আবু সাঈদও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছ ঘুরে দেখেন এবং চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম গ্রেডিং, সর্টিং ও শোধনকেন্দ্রও পরিদর্শন করছেন বলে জানা গেছে।

ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রায়হান সিদ্দিক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁর আম ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। গত বছর চীনের বাজারেও বাংলাদেশের আম প্রবেশ করেছে। এবার জাপানের বাজারে আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় আমচাষি সালাউদ্দিন বলেন, জাপানের মতো উচ্চমানের বাজারে বাংলাদেশের আম রপ্তানি শুরু হলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

পোরশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও উত্তম কৃষি চর্চার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে জাপানি প্রতিনিধি দল বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। তারা বাগানের উৎপাদন ব্যবস্থা ও আমের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের আম প্রবেশ করতে পারলে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আমের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর আমে মুগ্ধ জাপানি ব্যবসায়ীরা, বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহ

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নওগাঁর পোরশায় একটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন আম উৎপাদনে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার দুপুরে পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া এলাকায় অবস্থিত ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম নামের আমবাগানটি পরিদর্শন করেন জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এ সময় তারা বাগানের বিভিন্ন জাতের আম, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং রপ্তানি-উপযোগী উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত সুস্বাদু ও নিরাপদ আম জাপানের বাজারে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে তারা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর বিভিন্ন আমবাগান পরিদর্শন করছেন। সব প্রক্রিয়া সন্তোষজনক হলে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম আমদানি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নওগাঁর আমের স্বাদ ও গুণগত মান সম্পর্কে তারা ইতোমধ্যে জেনেছেন। বিশেষ করে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে উৎপাদিত আম দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের আম রপ্তানিকারক আবু সাঈদও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছ ঘুরে দেখেন এবং চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম গ্রেডিং, সর্টিং ও শোধনকেন্দ্রও পরিদর্শন করছেন বলে জানা গেছে।

ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রায়হান সিদ্দিক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁর আম ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। গত বছর চীনের বাজারেও বাংলাদেশের আম প্রবেশ করেছে। এবার জাপানের বাজারে আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় আমচাষি সালাউদ্দিন বলেন, জাপানের মতো উচ্চমানের বাজারে বাংলাদেশের আম রপ্তানি শুরু হলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

পোরশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও উত্তম কৃষি চর্চার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে জাপানি প্রতিনিধি দল বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। তারা বাগানের উৎপাদন ব্যবস্থা ও আমের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের আম প্রবেশ করতে পারলে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আমের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।