এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন সেজুতি হোসাইনসহ দুই শতাধিক নেতা-কর্মী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুবশক্তির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক সেজুতি হোসাইনসহ দুই শতাধিক নেতা-কর্মী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে সাভারের ব্যাংক কলোনিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর বাসভবনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তারা।
অনুষ্ঠানে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। জুলাই যোদ্ধারা এ দলে যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।”
দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করে সেজুতি হোসাইন বলেন, এনসিপিতে কাজ করার সময় দলটির বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ হয়েছেন। তার দাবি, অনভিজ্ঞতা ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দলটি একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির সময় থেকে তিনি নিজের সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তার অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়া এবং হঠাৎ করে নতুন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সেজুতি হোসাইন বলেন, “আমি কোনো পদ-পদবির লোভে বিএনপিতে যোগ দিইনি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারে বিশ্বাস থেকেই বিএনপিতে এসেছি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এনসিপি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেলেন জাহান রিফা ও সুজন আহমেদও বক্তব্য দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দেওয়ান মইন উদ্দিন বিপ্লব, সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদীর, পৌর বিএনপির সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ প্রদীপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
উল্লেখ্য, সেজুতি হোসাইনের এনসিপি সম্পর্কে করা অভিযোগগুলো তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এ বিষয়ে এনসিপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।


























