লামার কাঠালছড়া সড়কে জনদুর্ভোগ, অতিরিক্ত ইটবাহী গাড়ির চাপে বেহাল ২ কিলোমিটার সড়ক
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর বান্দরবানের কাঠালছড়া সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের দুর্ভোগের অবসান হয়নি। একদিকে ঠিকাদারের কাজের ধীরগতি, অন্যদিকে ইটভাটার অতিরিক্ত মালবাহী ডাম্পার ও ভারী যান চলাচলে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে সড়কটি সংস্কার করা হলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই তা আবার বেহাল হয়ে পড়ে। ইটভাটায় অতিরিক্ত ইট পরিবহনের জন্য ডাম্পারসহ ভারী যান চলাচল করায় সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার নাজমুল হোসেন ভুইয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করেননি। বর্তমানে কাজের জায়গায় ঠিকাদার না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে।
সড়কের বেহাল অবস্থা ও ঠিকাদারের ধীরগতির বিষয়ে লামা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু হানিফ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলেও জানান তাঁরা।
এদিকে সড়কের দুরবস্থার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইয়াংছা বাজার থেকে পাড়ায় যেতে আগে যেখানে ৩০ টাকা ভাড়া লাগত, বর্তমানে সেখানে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে যাতায়াতের সময় ও ঝুঁকি।
ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন মোটরসাইকেলচালকরাও। তাঁদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের যাতায়াতই হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি পুরোপুরি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ভারী ও ইটবাহী যান চলাচলে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত মান ও সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে কাঠালছড়ার মানুষ একটি টেকসই ও নিরাপদ সড়কের অপেক্ষায় রয়েছেন। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ আসে, কাজ শুরু হয়; কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই নানা কারণে আবার সড়কটি নষ্ট হয়ে যায়।
তাই কাঠালছড়ার মানুষের দাবি—প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত একটি টেকসই, নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজ ও অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।























