1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ, কমতে পারে লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশে লোডশেডিং কমানো এবং শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট নিরসনে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে এবং কেন্দ্রগুলোকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদনে ফিরলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। এর ফলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমবে এবং শিল্প খাতে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

চলতি মাসের শুরুতে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গ্যাসের পরিবর্তে ফার্নেস তেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। আগে মূলত সন্ধ্যায় এসব কেন্দ্র ব্যবহার করা হলেও এখন দিনের বেলাতেও সেগুলো থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, বর্তমানে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় দ্রুত সংকট কাটানোর উপায় হলো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অব্যবহৃত প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা কাজে লাগানো। তিনি জানান, সরকারের কাছে বকেয়া পাওনা পরিশোধ হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

বর্তমানে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ হলে আরও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এতে ৩ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার কমিয়ে সেই গ্যাস শিল্প খাতে সরবরাহ করা যাবে।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমতুল্য। ফলে বর্তমানে অলস পড়ে থাকা তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালু করা গেলে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সমপরিমাণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে সরকার দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের আশা, প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হবে। এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ফার্নেস তেল ব্যবহার করে আপাতত ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে এবং শিল্প খাতের জ্বালানি সংকটও অনেকটা কমে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ, কমতে পারে লোডশেডিং

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশে লোডশেডিং কমানো এবং শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট নিরসনে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে এবং কেন্দ্রগুলোকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদনে ফিরলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। এর ফলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমবে এবং শিল্প খাতে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

চলতি মাসের শুরুতে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গ্যাসের পরিবর্তে ফার্নেস তেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। আগে মূলত সন্ধ্যায় এসব কেন্দ্র ব্যবহার করা হলেও এখন দিনের বেলাতেও সেগুলো থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, বর্তমানে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় দ্রুত সংকট কাটানোর উপায় হলো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অব্যবহৃত প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা কাজে লাগানো। তিনি জানান, সরকারের কাছে বকেয়া পাওনা পরিশোধ হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

বর্তমানে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ হলে আরও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এতে ৩ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার কমিয়ে সেই গ্যাস শিল্প খাতে সরবরাহ করা যাবে।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমতুল্য। ফলে বর্তমানে অলস পড়ে থাকা তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালু করা গেলে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সমপরিমাণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে সরকার দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের আশা, প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হবে। এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ফার্নেস তেল ব্যবহার করে আপাতত ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে এবং শিল্প খাতের জ্বালানি সংকটও অনেকটা কমে আসবে।