ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতুর দাবি, সড়ক যোগাযোগ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান
ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার পরিবর্তে ভোলা–বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ভোলাবাসী’। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব, সময়, নির্মাণ ব্যয়, সেতুর সংখ্যা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তুলনা করে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ‘আমরা ভোলাবাসী’র সদস্যসচিব মীর মোশারেফ অমি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশিত হয়েছে। ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার আলোকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ভোলা–বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনায় নতুন করে প্রায় ২১ কিলোমিটার হাইওয়ে নির্মাণ, প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ বা প্রশস্তকরণ এবং মেঘনার মোহনায় তিনটি বড় সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটির মোট নির্মাণ ব্যয়, বাস্তবায়নে সময় এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ভোলা–বরিশাল সরাসরি সেতুর তুলনায় কতটা যৌক্তিক—তা কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে যাচাই করা জরুরি।
মীর মোশারেফ অমি বলেন, ‘আমরা হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের উন্নয়নের বিরোধিতা করি না। তবে প্রায় ২২ লাখ মানুষের সময়, ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় ভোলার সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুত, সরাসরি, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও ভবিষ্যৎমুখী যোগাযোগ কোন পথে নিশ্চিত হবে, তা তথ্য ও প্রকৌশলগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ভোলা–বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণ করা হলে ভোলা সরাসরি বিভাগীয় শহর বরিশালের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও দ্রুত ও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে ভোলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিকাশেও এ যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলেন, ভোলা–বরিশাল সরাসরি সেতু, লাহারহাট–ভেদুরিয়া রুট এবং রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুট—এই তিন ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব, যাতায়াতের সময়, নির্মাণ ব্যয়, সেতুর সংখ্যা, পরিবহন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তুলনা করা প্রয়োজন। এরপর পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার ভিত্তিতে সবচেয়ে কার্যকর প্রকল্প নির্বাচন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভোলার জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের দল-মত ও ব্যক্তিগত অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দাবি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া আবেদনে ‘আমরা ভোলাবাসী’র সদস্যসচিব মীর মোশারেফ অমি বলেন, ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং প্রায় ২২ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটের পাশাপাশি ভোলা–বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হোক।
বক্তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি কোনো ব্যক্তি, দল বা এলাকার বিরুদ্ধে নয়। এ দাবি ভোলার মানুষের স্বার্থে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বার্থে এবং একটি সরাসরি, কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে।’
সংবাদ সম্মেলনে ‘আমরা ভোলাবাসী’র সদস্য শরীফ হাওলাদার, মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত শাকিল, সদর উপজেলা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন, সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক নাসরিন জাহান, ভোলা পৌর ছাত্রসমাজের সদস্য মাহাদি হাসান, গোলাম হাওলাদার, ছাত্র শক্তির নেতা জুবায়েদ মোল্লা, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ইমাম আকবরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ রুট নিয়ে ভোলার অনেক মানুষ আশাবাদী হলেও একটি অংশ সরাসরি ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের পক্ষে মত দিয়ে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছে।
মোঃ সুলাইমান
ভোলা


























