গোপালগঞ্জে ৪০ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরলেন নিখোঁজ যুবক সজীব
প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে সজীব (২২) নামে এক মানসিকভাবে অসুস্থ যুবককে খুঁজে বের করেছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তার মা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা সজীব মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। তিনি প্রায়ই জেলা পুলিশ কার্যালয় ও সদর থানার আশপাশে ঘুরে বেড়াতেন। পুলিশের প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল এবং ইউনিফর্ম পরা কাউকে দেখলে তিনি স্যালুট করতেন।
গত ১৫ মে থেকে সজীবের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও ব্যর্থ হলে ২০ মে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তার সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্ত চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারের আশপাশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং নিজেকে “সজীব পুলিশ” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালায়।
পরে তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সজীবের পরিচয় ও বর্ণনা বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ভিডিও প্রকাশকারী ব্লগারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২৪ জুন বিকেলে পুলিশ সজীবের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
সজীবকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দীর্ঘ উদ্বেগ ও অপেক্ষার অবসান ঘটায় পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, সজীবকে খুঁজে বের করতে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের নিষ্ঠা, ধৈর্য ও আন্তরিক ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।
























