1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮ জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিন: দুই বছর পরও স্মৃতিতে আগুন, গুলি আর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ১৮ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সংঘাত, প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ এবং নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্য দিয়ে এক সংকটময় সময়ের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দিনভর আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ এবং সহিংসতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন অন্তত ২৭ থেকে ৩১ জন নিহত হন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় রাজধানীর উত্তরা এলাকায়। আজমপুর ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরও অস্থির হয়ে ওঠে। সেদিন উত্তরাতেই একাধিক প্রাণহানির খবর আসে।

ওই দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর মৃত্যু। আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার মৃত্যু আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত প্রতীক হয়ে ওঠে।

এদিন রাজধানীর ধানমন্ডিতে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ এবং যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মেহেদি হাসান নিহত হন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংঘাতের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মহাখালীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, বনানীর সেতু ভবন এবং রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও আগুনের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনের চলাচলও বন্ধ রাখা হয়।

দিনটির সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। রাতের দিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। পরবর্তী কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ থাকায় যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

পরবর্তীতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কারণ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) জানায়, সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতেই সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল।এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনের সমন্বয়করা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, সহিংসতার মধ্যে আলোচনা সম্ভব নয়।

পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে টেলিযোগাযোগ আইনেও সংস্কার আনা হয়, যাতে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের ক্ষমতা আরও সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

দুই বছর পরও ১৮ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

১৮ জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিন: দুই বছর পরও স্মৃতিতে আগুন, গুলি আর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আজ ১৮ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সংঘাত, প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ এবং নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্য দিয়ে এক সংকটময় সময়ের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দিনভর আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ এবং সহিংসতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন অন্তত ২৭ থেকে ৩১ জন নিহত হন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় রাজধানীর উত্তরা এলাকায়। আজমপুর ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরও অস্থির হয়ে ওঠে। সেদিন উত্তরাতেই একাধিক প্রাণহানির খবর আসে।

ওই দিনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর মৃত্যু। আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার মৃত্যু আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত প্রতীক হয়ে ওঠে।

এদিন রাজধানীর ধানমন্ডিতে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ এবং যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মেহেদি হাসান নিহত হন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংঘাতের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মহাখালীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, বনানীর সেতু ভবন এবং রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও আগুনের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনের চলাচলও বন্ধ রাখা হয়।

দিনটির সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। রাতের দিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। পরবর্তী কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ থাকায় যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

পরবর্তীতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কারণ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) জানায়, সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতেই সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল।এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনের সমন্বয়করা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, সহিংসতার মধ্যে আলোচনা সম্ভব নয়।

পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে টেলিযোগাযোগ আইনেও সংস্কার আনা হয়, যাতে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের ক্ষমতা আরও সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

দুই বছর পরও ১৮ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়।