বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পাঠদান চলছে অস্থায়ী টিনের চালায় যমুনার করাল গ্রাসে শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ
রোদ বৃষ্টি আর প্রচণ্ড গরমের মাঝেই ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা, পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
বগুড়ার তিনটি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত উত্তাল যমুনা নদী। এ নদীর করাল গ্রাসে কারও ভাঙছে বসতবাড়ি, কারও ভাঙছে ভিটামাটি। অনেকেই কৃষিজমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত। সব হারিয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের জায়গায়।
কেউ পাড়ি জমিয়েছেন শহরতলিতে। অনেকেই নিজ জেলা ছেড়ে অন্য জেলায় বসবাস করছেন। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নদীপাড়ের বহু মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন নিজ জেলা থেকে অন্য জেলায়। যমুনার অব্যাহত করালগ্রাসে বাদ পড়েনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।
ছয়বার ভাঙনের শিকার হয়েছে ১০৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বছর ১৭ মে বিদ্যালয়টি আবার নদীভাঙনের শিকার হয়। ভাঙনের পর থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে টিনের চালা দিয়ে গড়ে তোলা অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। এখানে বিদ্যুতের নেই কোনো ব্যবস্থা।
বৃষ্টি হলেই টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গায়ে। রোদ বৃষ্টি আর প্রচণ্ড গরমে মাঝেই ক্লাস করছে এই শিক্ষার্থীরা।
সারিয়াকান্দির যমুনা-তীরবর্তী চকরতিনাথ গ্রামে ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যমুনার অব্যাহত ভাঙনে পরপর ছয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। অভিভাবকরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু স্কুল নয়, নতুন প্রজন্ম শিক্ষার সুযোগও হারাবে।
চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে পড়াশোনা করে অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ভালো মানুষ তৈরির এই বিদ্যাপীঠ ২০১৫ সাল থেকে যমুনা নদীর ভাঙনের শিকার হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি ছয়বার ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত ১৭ মে বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের শিকার হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চাঁদা তুলে উপজেলার হাটশেরপুর গ্রামে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে সড়কের ওপর একচালা টিনের ঘর তোলে। ৮ জুন থেকে চারদিকে খোলা সেই টিনের চালার নিচে চলছে পাঠদান। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে ৭৪ জনে। অথচ একসময় এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪৮২ জন শিক্ষার্থী ছিল। আশপাশের গ্রামগুলো একসময় ছিল জনবহুল। কিন্তু বছরের পর বছর নদীভাঙনে মানুষ ভিটামাটি হারিয়ে কিংবা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বাঁধে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা এই স্কুলে দূরের শিক্ষার্থীদের পৌঁছাতে সময় এবং কষ্ট দুটোই হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে আসতে তাকে একটি নদী পার হতে হয়।






















