সৌদি জাহাজ দেখলেই হামলার হুমকি হুথির
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ জারির ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি। গোষ্ঠীটির দাবি, এখন থেকে লোহিত সাগর ও এর সঙ্গে সংযুক্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে কোনো সৌদি জাহাজ বা নৌযান দেখা গেলে সেটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
হুথির এক মুখপাত্র গতকাল এ ঘোষণা দেন। পরে গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, লোহিত সাগর এবং এর দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি কোনো জাহাজ বা নৌযান দেখলেই সেটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে হুথি।
হুথির ওই কর্মকর্তা জানান, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক বন্দর ও বিমানবন্দর সৌদি আরব অবরোধ করে রেখেছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে হুথির ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজ ও নৌযান রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে রিয়াদ।
সৌদি আরবের বৈদেশিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানির জন্য লোহিত সাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার কারণে সৌদি জ্বালানি রপ্তানিতে লোহিত সাগরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা চলে আসছে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে। এরপর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার সরকারকে পুনর্বহাল করতে ওই বছরই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে ইয়েমেনের একটি বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির বাকি অংশ সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এই সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
দীর্ঘ বৈরিতার মধ্যেও ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুথির মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকে উভয় পক্ষ মোটামুটি যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা বাড়ছে।
গত সপ্তাহে সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলার ঘটনা এবং সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকারের পর সৌদি আরব ও হুথির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি জাহাজকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুথির এই ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





















