1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মাছ, মুরগি ও সবজিসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামাল দেওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। একই আয়ে আগের তুলনায় অনেক কম পণ্য কিনতে পারছেন বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়েছে। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়াসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩0 টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকারও বেশি গুনতে হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রিকশাচালক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, দৈনন্দিন খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগের মতো সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য রাজধানীতে আসছে না। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। তাদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করতে হয় নিম্নআয়ের মানুষকে। কারণ তাদের আয়ের বড় একটি অংশ খাদ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যপণ্যের দামে সামান্য বৃদ্ধি পেলেও তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার, নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো জরুরি।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্য এখনো সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো এখনো বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছে না। ফলে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তার ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এখনো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মাছ, মুরগি ও সবজিসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামাল দেওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। একই আয়ে আগের তুলনায় অনেক কম পণ্য কিনতে পারছেন বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়েছে। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়াসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩0 টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকারও বেশি গুনতে হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রিকশাচালক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, দৈনন্দিন খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগের মতো সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য রাজধানীতে আসছে না। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। তাদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করতে হয় নিম্নআয়ের মানুষকে। কারণ তাদের আয়ের বড় একটি অংশ খাদ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যপণ্যের দামে সামান্য বৃদ্ধি পেলেও তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার, নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো জরুরি।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্য এখনো সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো এখনো বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছে না। ফলে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তার ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এখনো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি।