1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ফের উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে সাবমেরিন ক্যাবল, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ, সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৭

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উত্তর বাউরিয়া উপকূলীয় এলাকায় জাতীয় গ্রিডের সাবমেরিন বিদ্যুৎ ক্যাবলের একটি অংশ আবারও উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেলা জিও ব্যাগ জোয়ারের তীব্র স্রোতে সরে যাওয়ায় নতুন করে আরও প্রায় ৩০ ফুট ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে উত্তর বাউরিয়া সাগরতীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙনের কারণে সাবমেরিন ক্যাবলের একটি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।তবে দেড় মাস পর জোয়ারের তীব্র স্রোতে জিও ব্যাগগুলোর বেশির ভাগই স্থানচ্যুত হয়ে গেছে। এছাড়া জিও ব্যাগ ফেলা স্থানের পশ্চিম পাশে খালের প্রবল পানির স্রোতে আরও প্রায় ৩০ ফুট সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীপথে চলাচলকারী বাল্কহেড, ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানের প্রপেলারের আঘাতে ক্যাবল ছিঁড়ে যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নৌযানে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।দুটি কেবল দিয়ে ২০১৮ সাল থেকে দ্বীপটিতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে একটি ক্যাবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি ক্যাবলের স্থায়ীত্বকাল ৫০ বছর। ক্যাবল দুটি বিকল হলে সন্দ্বীপে বসবাস করা প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ ও ক্যাবল সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাবমেরিন ক্যাবলের তারগুলো মাটি থেকে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ ক্যাবলের ওপরে বসে ছবি তুলছেন ও টিকটক বানাচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পিডিবি চট্টগ্রামের (বিতরণ দক্ষিণ) প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পাউবোকে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও অবহিত করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে বলে জানালেও এখনো আসেননি।

সন্দ্বীপ পিডিপির দায়িত্বরত এক্সিয়েন তানভীর হোসেন বলেন, জিওব্যাগ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলগুলোকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে কিন্তু অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে জিওব্যাগগুলো সরে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপ উপজেলাকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের সংকট কাটিয়ে দ্বীপাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৪৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ফের উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে সাবমেরিন ক্যাবল, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৪৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
১৭

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উত্তর বাউরিয়া উপকূলীয় এলাকায় জাতীয় গ্রিডের সাবমেরিন বিদ্যুৎ ক্যাবলের একটি অংশ আবারও উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেলা জিও ব্যাগ জোয়ারের তীব্র স্রোতে সরে যাওয়ায় নতুন করে আরও প্রায় ৩০ ফুট ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে উত্তর বাউরিয়া সাগরতীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙনের কারণে সাবমেরিন ক্যাবলের একটি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।তবে দেড় মাস পর জোয়ারের তীব্র স্রোতে জিও ব্যাগগুলোর বেশির ভাগই স্থানচ্যুত হয়ে গেছে। এছাড়া জিও ব্যাগ ফেলা স্থানের পশ্চিম পাশে খালের প্রবল পানির স্রোতে আরও প্রায় ৩০ ফুট সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীপথে চলাচলকারী বাল্কহেড, ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানের প্রপেলারের আঘাতে ক্যাবল ছিঁড়ে যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নৌযানে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।দুটি কেবল দিয়ে ২০১৮ সাল থেকে দ্বীপটিতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে একটি ক্যাবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি ক্যাবলের স্থায়ীত্বকাল ৫০ বছর। ক্যাবল দুটি বিকল হলে সন্দ্বীপে বসবাস করা প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ ও ক্যাবল সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাবমেরিন ক্যাবলের তারগুলো মাটি থেকে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ ক্যাবলের ওপরে বসে ছবি তুলছেন ও টিকটক বানাচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পিডিবি চট্টগ্রামের (বিতরণ দক্ষিণ) প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পাউবোকে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও অবহিত করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে বলে জানালেও এখনো আসেননি।

সন্দ্বীপ পিডিপির দায়িত্বরত এক্সিয়েন তানভীর হোসেন বলেন, জিওব্যাগ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলগুলোকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে কিন্তু অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে জিওব্যাগগুলো সরে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপ উপজেলাকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের সংকট কাটিয়ে দ্বীপাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল।