লামায় মাদকবিরোধী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
বান্দরবানের লামা পৌর এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে থানা পুলিশ। মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে শনিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) লামা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদের নির্দেশনায় থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে সতর্ক হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মাদকদ্রব্য বা মাদক কারবারিকে আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লামা পৌর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সরবরাহ, বিক্রয় ও সেবন বন্ধে সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তাও দিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম জনপদ হওয়ায় লামা উপজেলায় মাদক পাচার ও বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, সংরক্ষণ ও সেবন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন ও মাদকের পরিমাণভেদে সংশ্লিষ্ট আইনে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ফলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের উৎস ও সরবরাহের পথ বন্ধ করাও জরুরি।
এদিকে লামা পৌর এলাকায় পুলিশের এ সাঁড়াশি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদক নির্মূলে নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লামা থানা পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবারিদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।


























