1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রী নিহত, আড়াই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

মোহাম্মদ আমানত হোসাইন , চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় ইষা দাস (১১) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদিঘী কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মিঠাদিঘী স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত ইষা দাস ছদাহা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ার সুনীল দাসের মেয়ে এবং ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দুপুরের খাবারের বিরতির পর সহপাঠীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে ফেরার পথে মিঠাদিঘী স্টেশনের ব্রিজ পার হওয়ার সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৯৪৭০) ইষা দাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কায় সে সড়ক থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক বাসটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় যানজটে আটকা পড়লে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে বাস ও চালককে আটক করে ঘটনাস্থলে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

আহত শিক্ষার্থীর জেঠু স্বপন কান্তি দাস জানান, দুর্ঘটনার পর ইষাকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম শহরের গোলপাহাড় মোড় এলাকার রয়েল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ সহপাঠী ও স্থানীয় জনতা জড়িত বাসটির সামনের ও দুই পাশের গ্লাস ভাঙচুর করেন। পরে নিরাপদ সড়ক ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা।

এতে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

পরে খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের চালককে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।

পরে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীও মোঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার ও ওভারব্রিজ নির্মাণ, বাসচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টায় উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পরে রাত ৯টার সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রী নিহত, আড়াই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় ইষা দাস (১১) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদিঘী কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মিঠাদিঘী স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত ইষা দাস ছদাহা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ার সুনীল দাসের মেয়ে এবং ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দুপুরের খাবারের বিরতির পর সহপাঠীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে ফেরার পথে মিঠাদিঘী স্টেশনের ব্রিজ পার হওয়ার সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৯৪৭০) ইষা দাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কায় সে সড়ক থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক বাসটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় যানজটে আটকা পড়লে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে বাস ও চালককে আটক করে ঘটনাস্থলে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

আহত শিক্ষার্থীর জেঠু স্বপন কান্তি দাস জানান, দুর্ঘটনার পর ইষাকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম শহরের গোলপাহাড় মোড় এলাকার রয়েল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ সহপাঠী ও স্থানীয় জনতা জড়িত বাসটির সামনের ও দুই পাশের গ্লাস ভাঙচুর করেন। পরে নিরাপদ সড়ক ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা।

এতে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

পরে খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের চালককে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।

পরে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীও মোঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার ও ওভারব্রিজ নির্মাণ, বাসচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টায় উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পরে রাত ৯টার সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।