1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা কেপ ভার্দে

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দশটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে, যার সরকারি নাম কাবো ভার্দে। বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটি নতুন করে আলোচনায় এলেও এর পরিচয় শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আগুন, সমুদ্র এবং টিকে থাকার এক অনন্য ইতিহাস বহন করে এই দ্বীপদেশ।

লাখ লাখ বছর আগে সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্টি হয় কেপ ভার্দের দ্বীপগুলো। সেই ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাক্ষী ফোগো দ্বীপের পিকো দো ফোগো আগ্নেয়গিরি। প্রায় তিন হাজার মিটার উঁচু এই আগ্নেয়গিরিতে বহুবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। লাভার স্রোতে গ্রাম বিলীন হয়েছে, মানুষ হারিয়েছে ঘরবাড়ি। তবু প্রতিবারই তারা ফিরে এসেছে, নতুন করে ঘর বানিয়েছে, আঙুরের বাগান করেছে এবং জীবন শুরু করেছে।

প্রকৃতির দিক থেকেও কেপ ভার্দে বৈচিত্র্যে ভরপুর। কোথাও খাড়া পাহাড়, কোথাও শুষ্ক আগ্নেয় সমভূমি, আবার কোথাও নীল সমুদ্রঘেরা বালুকাবেলা। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটি খরা ও পানির সংকটের সঙ্গে লড়াই করেছে। তবু সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এখানকার মানুষ গড়ে তুলেছে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ, যা আফ্রিকার অন্যতম সফল গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত।

দেশটির আরেকটি বিশেষ পরিচয় এর মানুষ। প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দেশের চেয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দিয়ানের সংখ্যা আরও বেশি। পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীরা এখনও মাতৃভূমির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

এই আবেগের প্রতিফলন সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কেপ ভার্দের সংগীতে। দেশটির কিংবদন্তি শিল্পী সিজারিয়া এভোরা, যিনি দ্য বেয়ারফুট ডিভা নামে পরিচিত, তাঁর গানে উঠে এসেছে সমুদ্রযাত্রা, অপেক্ষা, ভালোবাসা এবং বিচ্ছেদের গল্প। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে একটি জাতির স্মৃতি ও আত্মপরিচয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দে হয়তো ফুটবলের নতুন বিস্ময়। তবে মাঠের বাইরের গল্পটি আরও গভীর। এটি এমন এক দেশের গল্প, যার জন্ম আগুনে, জীবন সমুদ্রের সঙ্গে এবং যার মানুষেরা বারবার প্রমাণ করেছে প্রতিকূলতার চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে আশা ও সাহস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

আগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা কেপ ভার্দে

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দশটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে, যার সরকারি নাম কাবো ভার্দে। বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটি নতুন করে আলোচনায় এলেও এর পরিচয় শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আগুন, সমুদ্র এবং টিকে থাকার এক অনন্য ইতিহাস বহন করে এই দ্বীপদেশ।

লাখ লাখ বছর আগে সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্টি হয় কেপ ভার্দের দ্বীপগুলো। সেই ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাক্ষী ফোগো দ্বীপের পিকো দো ফোগো আগ্নেয়গিরি। প্রায় তিন হাজার মিটার উঁচু এই আগ্নেয়গিরিতে বহুবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। লাভার স্রোতে গ্রাম বিলীন হয়েছে, মানুষ হারিয়েছে ঘরবাড়ি। তবু প্রতিবারই তারা ফিরে এসেছে, নতুন করে ঘর বানিয়েছে, আঙুরের বাগান করেছে এবং জীবন শুরু করেছে।

প্রকৃতির দিক থেকেও কেপ ভার্দে বৈচিত্র্যে ভরপুর। কোথাও খাড়া পাহাড়, কোথাও শুষ্ক আগ্নেয় সমভূমি, আবার কোথাও নীল সমুদ্রঘেরা বালুকাবেলা। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটি খরা ও পানির সংকটের সঙ্গে লড়াই করেছে। তবু সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এখানকার মানুষ গড়ে তুলেছে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ, যা আফ্রিকার অন্যতম সফল গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত।

দেশটির আরেকটি বিশেষ পরিচয় এর মানুষ। প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দেশের চেয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দিয়ানের সংখ্যা আরও বেশি। পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীরা এখনও মাতৃভূমির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

এই আবেগের প্রতিফলন সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কেপ ভার্দের সংগীতে। দেশটির কিংবদন্তি শিল্পী সিজারিয়া এভোরা, যিনি দ্য বেয়ারফুট ডিভা নামে পরিচিত, তাঁর গানে উঠে এসেছে সমুদ্রযাত্রা, অপেক্ষা, ভালোবাসা এবং বিচ্ছেদের গল্প। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে একটি জাতির স্মৃতি ও আত্মপরিচয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দে হয়তো ফুটবলের নতুন বিস্ময়। তবে মাঠের বাইরের গল্পটি আরও গভীর। এটি এমন এক দেশের গল্প, যার জন্ম আগুনে, জীবন সমুদ্রের সঙ্গে এবং যার মানুষেরা বারবার প্রমাণ করেছে প্রতিকূলতার চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে আশা ও সাহস।