1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১,৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাস ক্রয়, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সম্প্রতি বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষর করেন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিআরটিসি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণপরিবহন সেবা দিয়ে আসছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন আন্তঃনগর রুটেও পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় ও বায়ুদূষণ কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও হ্রাস পাবে।

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ২৫০ কোটি টাকা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, যন্ত্রাংশ ও স্পেয়ার পার্টস ক্রয়ে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, নিবন্ধন ও অন্যান্য খাতে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপো ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, বিআরটিসির নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের চাপ সৃষ্টি হবে। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিআরটিসির মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১,৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাস ক্রয়, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সম্প্রতি বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষর করেন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিআরটিসি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণপরিবহন সেবা দিয়ে আসছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন আন্তঃনগর রুটেও পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় ও বায়ুদূষণ কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও হ্রাস পাবে।

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ২৫০ কোটি টাকা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, যন্ত্রাংশ ও স্পেয়ার পার্টস ক্রয়ে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, নিবন্ধন ও অন্যান্য খাতে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপো ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, বিআরটিসির নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের চাপ সৃষ্টি হবে। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিআরটিসির মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।