1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাইনালে অতিমানবীয় মার্টিনেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে ভাঙা আঙুল নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনার গোলবার সামলেছেন তিনি। আর ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিয়েও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি এই তারকা গোলরক্ষক।

১২০ মিনিটের ম্যাচে স্পেনের ১১টি শট ঠেকিয়েছেন মার্টিনেজ। বিপরীতে টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা স্পেনের উনাই সিমনের মোট সেভ ছিল ১০টি। স্পেনের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে আর্জেন্টিনার অন্য বিভাগগুলো যখন অনেকটাই অসহায়, তখন শেষ পর্যন্ত একাই দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন মার্টিনেজ।

ম্যাচের শুরুতেই লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি। এরপর মিকেল ওয়ারজাবালের জোরালো প্রচেষ্টা, আলেক্স বায়েনার শট, দানি ওলমোর প্রচেষ্টা, ফেররান তোরেসের হেড, পেদ্রির শটসহ একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন এই গোলরক্ষক। আইমেরিক লাপোর্তের শট, নিকো উইলিয়ামসের হেড এবং ইয়ামালের ফ্রি-কিকও তার গ্লাভসে আটকে যায়।

তবে এত দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও একটি মুহূর্ত হয়তো দীর্ঘদিন তাড়া করবে মার্টিনেজকে। নাহুয়েল মোলিনার পেছনে পড়া একটি ক্রস নিকো উইলিয়ামস হেড করে মাঠের ভেতরে ফিরিয়ে দেন। সেই বল থেকেই ফেররান তোরেস গোল করে কাঁপিয়ে দেন আর্জেন্টিনার জাল। অনেকের মতে, ওই ক্রসটি আটকানোর সুযোগ ছিল মার্টিনেজের। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতায় ছয় গজের বক্সেই থেকে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয় স্পেন।

২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মার্টিনেজ জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা নিয়ে ফিরতে চান। সেই লক্ষ্যেই এবারের আসরে খেলেছেন ভাঙা আঙুলের ব্যথা নিয়েও। ইউরোপা লিগের ফাইনালে ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে যাওয়ার পর অস্ত্রোপচারের পরামর্শ পেলেও তিনি তা করাননি। বরং স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ হওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

ফাইনালের আগে নিজের ব্যথার কথাও স্বীকার করেছিলেন মার্টিনেজ। তবে মাঠে তার আত্মবিশ্বাস, ক্ষিপ্রতা ও সতর্কতায় ছিল চেনা সেই ছাপ। শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব উজাড় করে লড়াই করেও দলকে জেতাতে পারেননি।

শেষ বাঁশি বাজার পর যখন হতাশায় ভেঙে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, তখনও সতীর্থদের পাশে ছিলেন মার্টিনেজ। একে একে সতীর্থদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন, কথা বলছিলেন, সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। নিজের ভেতরের কষ্ট আড়াল করে সতীর্থদের সাহস জোগানোর সেই দৃশ্যও হয়ে ওঠে ফাইনালের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। শিরোপা না পেলেও লড়াকু মানসিকতা ও অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফেরও আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান যোদ্ধা হয়েই থাকলেন ‘দিবু’ মার্টিনেজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ফাইনালে অতিমানবীয় মার্টিনেজ

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে ভাঙা আঙুল নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনার গোলবার সামলেছেন তিনি। আর ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিয়েও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি এই তারকা গোলরক্ষক।

১২০ মিনিটের ম্যাচে স্পেনের ১১টি শট ঠেকিয়েছেন মার্টিনেজ। বিপরীতে টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা স্পেনের উনাই সিমনের মোট সেভ ছিল ১০টি। স্পেনের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে আর্জেন্টিনার অন্য বিভাগগুলো যখন অনেকটাই অসহায়, তখন শেষ পর্যন্ত একাই দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন মার্টিনেজ।

ম্যাচের শুরুতেই লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি। এরপর মিকেল ওয়ারজাবালের জোরালো প্রচেষ্টা, আলেক্স বায়েনার শট, দানি ওলমোর প্রচেষ্টা, ফেররান তোরেসের হেড, পেদ্রির শটসহ একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন এই গোলরক্ষক। আইমেরিক লাপোর্তের শট, নিকো উইলিয়ামসের হেড এবং ইয়ামালের ফ্রি-কিকও তার গ্লাভসে আটকে যায়।

তবে এত দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও একটি মুহূর্ত হয়তো দীর্ঘদিন তাড়া করবে মার্টিনেজকে। নাহুয়েল মোলিনার পেছনে পড়া একটি ক্রস নিকো উইলিয়ামস হেড করে মাঠের ভেতরে ফিরিয়ে দেন। সেই বল থেকেই ফেররান তোরেস গোল করে কাঁপিয়ে দেন আর্জেন্টিনার জাল। অনেকের মতে, ওই ক্রসটি আটকানোর সুযোগ ছিল মার্টিনেজের। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতায় ছয় গজের বক্সেই থেকে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয় স্পেন।

২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মার্টিনেজ জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা নিয়ে ফিরতে চান। সেই লক্ষ্যেই এবারের আসরে খেলেছেন ভাঙা আঙুলের ব্যথা নিয়েও। ইউরোপা লিগের ফাইনালে ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে যাওয়ার পর অস্ত্রোপচারের পরামর্শ পেলেও তিনি তা করাননি। বরং স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ হওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

ফাইনালের আগে নিজের ব্যথার কথাও স্বীকার করেছিলেন মার্টিনেজ। তবে মাঠে তার আত্মবিশ্বাস, ক্ষিপ্রতা ও সতর্কতায় ছিল চেনা সেই ছাপ। শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব উজাড় করে লড়াই করেও দলকে জেতাতে পারেননি।

শেষ বাঁশি বাজার পর যখন হতাশায় ভেঙে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, তখনও সতীর্থদের পাশে ছিলেন মার্টিনেজ। একে একে সতীর্থদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন, কথা বলছিলেন, সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। নিজের ভেতরের কষ্ট আড়াল করে সতীর্থদের সাহস জোগানোর সেই দৃশ্যও হয়ে ওঠে ফাইনালের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। শিরোপা না পেলেও লড়াকু মানসিকতা ও অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফেরও আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান যোদ্ধা হয়েই থাকলেন ‘দিবু’ মার্টিনেজ।