1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা সিটি কলেজে ১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম , নানা আর্থিক অসঙ্গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর ধানমন্ডির ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজটিতে অনুমোদিত ১৯৮টি শিক্ষক পদের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগে সরকারি আইন, বিধিমালা ও বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া গত নয় বছরের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনায় ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে নগদে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয়, ভ্যাট ও উৎসে আয়কর বাবদ ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা সরকারি রাজস্ব না দেওয়া এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা সম্মানী দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিআইএ এসব ঘটনাকে আর্থিক বিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ২৮৮ জন। অনুমোদিত ১৯৮টি শিক্ষক পদের মধ্যে প্রথম ১০০ জনের নিয়োগে ১৯৮২ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। যদিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, তবে নিয়োগ কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

এ ছাড়া পৃথক নিয়োগ কমিটি গঠন এবং গভর্নিং বডির বৈধ অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণও অডিট দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, আরও পাঁচজন শিক্ষকের নিয়োগে কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ বা নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়নি। তাদের নিয়োগে গভর্নিং বডির অনুমোদনেরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এসব নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ।

নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে কলেজটিতে অতিরিক্ত ৩৪ জন অধ্যাপক ও ৪৭ জন সহযোগী অধ্যাপক পদায়ন করা হয়েছে। তাদের চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেওয়াকে বিধিবহির্ভূত ‘স্টাফিং প্যাটার্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ডিআইএ।

ব্যাংকিং বিধি ভেঙে নগদে ৭২ লাখ টাকা ব্যয়

অডিটে ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত নয় বছরে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার না করে নগদে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব অর্থ নির্ধারিত তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখার এবং ব্যয় ক্রস চেকের মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিধি অনুসরণ না করে নগদ অর্থে ব্যয় করেছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সদস্যদের পৌনে দুই কোটি টাকা সম্মানী

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে পরিদর্শনের সময় পর্যন্ত কলেজটির গভর্নিং বডির সদস্যরা ‘সিটিং অ্যালাউন্স’ বা সম্মানী হিসেবে মোট এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা গ্রহণ করেছেন।

ডিআইএর মতে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যদের এ ধরনের সম্মানী গ্রহণের কোনো বিধান নেই। ফলে এ অর্থ গ্রহণকে বেআইনি ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করে পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভ্যাট-আয়করে ৩১ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি

কলেজটির বিভিন্ন কেনাকাটা, নির্মাণকাজ, আপ্যায়ন, বিজ্ঞাপন, ছাপা ও খেলাধুলা সংক্রান্ত ব্যয়ে উৎসে ভ্যাট কর্তন করা হয়নি। এতে ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ খাতে আরও ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ টাকা আয়কর জমা হয়নি। সব মিলিয়ে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখাতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ

অডিট প্রতিবেদনে কলেজটির ভৌত অবকাঠামো ও প্রশাসনিক অবস্থারও বিবরণ রয়েছে। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১০ হাজার ৮১১ জন। প্রায় ৩৯৪ দশমিক ০৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ১৮০টি শ্রেণিকক্ষ।

তবে পরিদর্শনের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি ও একাডেমিক হিসাব অডিট দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কলেজটির বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলা পরিচালনায় কলেজের তহবিল থেকে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার কোনো হিসাব বা প্রমাণকও অডিট দলকে দেখাতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব এবং সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান কলেজটি পরিদর্শন করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেন।

ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ ‘ব্রডশিট’ আকারে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। অডিট প্রতিবেদনে ঢাকা সিটি কলেজের নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যেসব অনিয়ম উঠে এসেছে, তা সরকারি আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ব্রডশিট জবাব ও প্রমাণক পর্যালোচনার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা সিটি কলেজে ১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম , নানা আর্থিক অসঙ্গতি

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ধানমন্ডির ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজটিতে অনুমোদিত ১৯৮টি শিক্ষক পদের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগে সরকারি আইন, বিধিমালা ও বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া গত নয় বছরের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনায় ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে নগদে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয়, ভ্যাট ও উৎসে আয়কর বাবদ ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা সরকারি রাজস্ব না দেওয়া এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা সম্মানী দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিআইএ এসব ঘটনাকে আর্থিক বিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ২৮৮ জন। অনুমোদিত ১৯৮টি শিক্ষক পদের মধ্যে প্রথম ১০০ জনের নিয়োগে ১৯৮২ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। যদিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, তবে নিয়োগ কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

এ ছাড়া পৃথক নিয়োগ কমিটি গঠন এবং গভর্নিং বডির বৈধ অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণও অডিট দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, আরও পাঁচজন শিক্ষকের নিয়োগে কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ বা নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়নি। তাদের নিয়োগে গভর্নিং বডির অনুমোদনেরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এসব নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ।

নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে কলেজটিতে অতিরিক্ত ৩৪ জন অধ্যাপক ও ৪৭ জন সহযোগী অধ্যাপক পদায়ন করা হয়েছে। তাদের চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেওয়াকে বিধিবহির্ভূত ‘স্টাফিং প্যাটার্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ডিআইএ।

ব্যাংকিং বিধি ভেঙে নগদে ৭২ লাখ টাকা ব্যয়

অডিটে ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত নয় বছরে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার না করে নগদে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব অর্থ নির্ধারিত তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখার এবং ব্যয় ক্রস চেকের মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিধি অনুসরণ না করে নগদ অর্থে ব্যয় করেছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সদস্যদের পৌনে দুই কোটি টাকা সম্মানী

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে পরিদর্শনের সময় পর্যন্ত কলেজটির গভর্নিং বডির সদস্যরা ‘সিটিং অ্যালাউন্স’ বা সম্মানী হিসেবে মোট এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা গ্রহণ করেছেন।

ডিআইএর মতে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যদের এ ধরনের সম্মানী গ্রহণের কোনো বিধান নেই। ফলে এ অর্থ গ্রহণকে বেআইনি ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করে পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভ্যাট-আয়করে ৩১ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি

কলেজটির বিভিন্ন কেনাকাটা, নির্মাণকাজ, আপ্যায়ন, বিজ্ঞাপন, ছাপা ও খেলাধুলা সংক্রান্ত ব্যয়ে উৎসে ভ্যাট কর্তন করা হয়নি। এতে ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ খাতে আরও ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ টাকা আয়কর জমা হয়নি। সব মিলিয়ে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখাতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ

অডিট প্রতিবেদনে কলেজটির ভৌত অবকাঠামো ও প্রশাসনিক অবস্থারও বিবরণ রয়েছে। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১০ হাজার ৮১১ জন। প্রায় ৩৯৪ দশমিক ০৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ১৮০টি শ্রেণিকক্ষ।

তবে পরিদর্শনের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি ও একাডেমিক হিসাব অডিট দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কলেজটির বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলা পরিচালনায় কলেজের তহবিল থেকে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার কোনো হিসাব বা প্রমাণকও অডিট দলকে দেখাতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব এবং সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান কলেজটি পরিদর্শন করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেন।

ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ ‘ব্রডশিট’ আকারে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। অডিট প্রতিবেদনে ঢাকা সিটি কলেজের নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যেসব অনিয়ম উঠে এসেছে, তা সরকারি আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ব্রডশিট জবাব ও প্রমাণক পর্যালোচনার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।