গ্যাস সংকট নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এ সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৭ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি দেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করে বলেন, সংকট নিরসনে তার এবং মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগাতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দলের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করবেন। এরপর সম্ভাব্য সহযোগিতা ও করণীয় সম্পর্কে বাংলাদেশকে জানানো হবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞদের নিয়ে গ্যাস সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে এই অঞ্চলে এক্সিলারেট এনার্জির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাশিমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। তাদের কর্মপরিকল্পনা শোনার পাশাপাশি আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনায় এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকর্তারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সঠিকভাবে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের মোট গ্যাসের চাহিদা দুইভাবে পূরণ করা হয়। এর একটি অংশ দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন করা হয়। আরেকটি অংশ আমদানি করা এলএনজি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে রিগ্যাসিফিকেশনের মাধ্যমে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে একটি এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর আমদানি করা এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ কমাতে হয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং যানবাহন খাতে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ত্রুটিপূর্ণ এফএসআরইউটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল নিরবচ্ছিন্নভাবে এফএসআরইউ পরিচালনাকারী এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ ঘটনায় প্রতি মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।’



























