1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোকসানের ভয়ে মঠবাড়িয়ায় কমছে পাট চাষ

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ক্রমাগত মুখ থুবড়ে পড়ছে এক সময়ের সম্ভাবনাময় পাট চাষ। সার-কীটনাশকের ঊর্ধ্বমুখী দাম, অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ এবং মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় কৃষকরা পাট চাষ থেকে দিন দিন বিমুখ হযে পড়ছে। ফলে স্থানীয়পর্যায়ে অনেকটাই সংকুচিত হয়ে আসছে ‘সোনালি আঁশ পাটের আবাদ।

স্থানীয় চাষিরা জানান, ৬৬ শতাংশ (এক কুড়া) জমিতে পাট আবাদ করতে চাষিদের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু মৌসুম শেষে ওই পরিমাণ জমি থেকে খুব বেশি হলে ৮ থেকে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়। বাজারে ভালো মানের পাট মানভেদে মণপ্রতি সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকায় বিক্রি হলেও মোট আয় আসে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। ফলে জমি প্রতি কৃষকের ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়। লোকসানের এই উচ্চ ঝুঁকির কারণেই দিন দিন পাট চাষে অনীহা বাড়ছে কৃষকদের।

উপজেলার আমড়াগাছিয়া এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, সার, ওষুধ ও শ্রমিকের উচ্চমূল্যের কারণে পাট চাষ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি। অনেক চাষি এখন আঁশের আশা ছেড়ে দিয়ে কেবল কচি পাটশাক হিসেবে বিক্রির জন্য অল্প জায়গায় এর আবাদ করছেন। গাছ কিছুটা বড় হতেই শাক হিসেবে বাজারে তুলে খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

একই আক্ষেপ ঝরে পড়লো বড় মাছুয়া ইউনিয়নের চাষি মিরাজ মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, এত পরিশ্রম করে ফসল ফলানোর পর যদি লোকসানই হয়, তবে আগামীতে আর এই আবাদে ফেরার উপায় থাকে না।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মঠবাড়িয়ার হাতে গোনা দুই-তিনটি ইউনিয়নের জমি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। চলতি মৌসুমে মোট ৩২ হেক্টর জমিতে পাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর জমিতে দেশি পাট আবাদ করে ২৫ টন উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২২ হেক্টর জমিতে তোষা পাট চাষ করা হয়েছে, যা থেকে ৪২ লাখ টাকা মূল্যের ৬৬ টন পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

মাঠকর্মী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহির আহমেদ জানান, আঁশ সংগ্রহের বদলে অনেক কৃষক শাক বিক্রি করে দিচ্ছেন—এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও উন্নতমানের পাট উৎপাদনে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো মান ধরে রাখা যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, পাট আমাদের অর্থনীতির অন্যতম শক্ত ভিত। কৃষকদের এই চাষে ধরে রাখতে এবং ফলন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে পাটের যথাযথ দাম নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে কৃষকরা আবারো পুরোদমে পাট চাষে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:২১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

লোকসানের ভয়ে মঠবাড়িয়ায় কমছে পাট চাষ

আপডেট সময় : ১২:০৬:২১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ক্রমাগত মুখ থুবড়ে পড়ছে এক সময়ের সম্ভাবনাময় পাট চাষ। সার-কীটনাশকের ঊর্ধ্বমুখী দাম, অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ এবং মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় কৃষকরা পাট চাষ থেকে দিন দিন বিমুখ হযে পড়ছে। ফলে স্থানীয়পর্যায়ে অনেকটাই সংকুচিত হয়ে আসছে ‘সোনালি আঁশ পাটের আবাদ।

স্থানীয় চাষিরা জানান, ৬৬ শতাংশ (এক কুড়া) জমিতে পাট আবাদ করতে চাষিদের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু মৌসুম শেষে ওই পরিমাণ জমি থেকে খুব বেশি হলে ৮ থেকে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়। বাজারে ভালো মানের পাট মানভেদে মণপ্রতি সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকায় বিক্রি হলেও মোট আয় আসে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। ফলে জমি প্রতি কৃষকের ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়। লোকসানের এই উচ্চ ঝুঁকির কারণেই দিন দিন পাট চাষে অনীহা বাড়ছে কৃষকদের।

উপজেলার আমড়াগাছিয়া এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, সার, ওষুধ ও শ্রমিকের উচ্চমূল্যের কারণে পাট চাষ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি। অনেক চাষি এখন আঁশের আশা ছেড়ে দিয়ে কেবল কচি পাটশাক হিসেবে বিক্রির জন্য অল্প জায়গায় এর আবাদ করছেন। গাছ কিছুটা বড় হতেই শাক হিসেবে বাজারে তুলে খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

একই আক্ষেপ ঝরে পড়লো বড় মাছুয়া ইউনিয়নের চাষি মিরাজ মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, এত পরিশ্রম করে ফসল ফলানোর পর যদি লোকসানই হয়, তবে আগামীতে আর এই আবাদে ফেরার উপায় থাকে না।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মঠবাড়িয়ার হাতে গোনা দুই-তিনটি ইউনিয়নের জমি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। চলতি মৌসুমে মোট ৩২ হেক্টর জমিতে পাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর জমিতে দেশি পাট আবাদ করে ২৫ টন উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২২ হেক্টর জমিতে তোষা পাট চাষ করা হয়েছে, যা থেকে ৪২ লাখ টাকা মূল্যের ৬৬ টন পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

মাঠকর্মী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহির আহমেদ জানান, আঁশ সংগ্রহের বদলে অনেক কৃষক শাক বিক্রি করে দিচ্ছেন—এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও উন্নতমানের পাট উৎপাদনে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো মান ধরে রাখা যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, পাট আমাদের অর্থনীতির অন্যতম শক্ত ভিত। কৃষকদের এই চাষে ধরে রাখতে এবং ফলন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে পাটের যথাযথ দাম নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে কৃষকরা আবারো পুরোদমে পাট চাষে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।