1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি : রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে হারিয়ে ফেলা যাবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই সেই চেতনার প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।

বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।”

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন এক মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন, যার ছেলে আন্দোলনে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তার ভাষায়, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর বিদেশি দখলদার শক্তিকে পরাজিত করার স্মারক, আর ৫ আগস্ট দেশীয় স্বৈরশাসনের অবসানের প্রতীক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের চিন্তা ও মনোজগতে শুরু হতে হবে। কেবল আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের সূচনা সংবিধান থেকেই হওয়া উচিত।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অতীতের দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও বাকস্বাধীনতা হরণের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৩০ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি : রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৩০ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে হারিয়ে ফেলা যাবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই সেই চেতনার প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।

বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।”

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন এক মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন, যার ছেলে আন্দোলনে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তার ভাষায়, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর বিদেশি দখলদার শক্তিকে পরাজিত করার স্মারক, আর ৫ আগস্ট দেশীয় স্বৈরশাসনের অবসানের প্রতীক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের চিন্তা ও মনোজগতে শুরু হতে হবে। কেবল আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের সূচনা সংবিধান থেকেই হওয়া উচিত।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অতীতের দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন ও বাকস্বাধীনতা হরণের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।