1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়ায় বন্দি রাজীব, দেড় বছরেও মেলেনি সন্ধান

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১১

ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের যুবক রাজীব মীর। সেখানে পৌঁছানোর পর মানবপাচারকারী চক্রের হাতে বন্দি হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও প্রায় দেড় বছর ধরে রাজীবের কোনো সন্ধান মিলছে না।
ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাজীবের মা শিল্পী বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে প্রতিনিয়ত কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। কখনো ছেলে ফিরে আসবে—এই আশায় দিন গুনছে পরিবার।
পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার প্রস্তাব পান রাজীব। তখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলেন। সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে দালালের সঙ্গে চুক্তি হয় পরিবারের।
চুক্তি অনুযায়ী রাজীবকে বিদেশ পাঠানোর জন্য লোকমান হাওলাদার ও তার সহযোগীদের হাতে প্রায় ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট রাজীবকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজীবকে একটি চক্র আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এরপর তার মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় পরিবারটি সেই টাকা পরিশোধ করে।
কিন্তু এরপরও রাজীবকে ছেড়ে না দিয়ে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ওই টাকা দিতে না পারার পর থেকেই রাজীবের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার।
রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, “দেড় বছর ধরে আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। দালালদের কথাও বিশ্বাস করার মতো নয়। ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে আমরা লাখ লাখ টাকা হারিয়েছি। এখন আমার একটাই চাওয়া—আমার ছেলে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, সেটা জানতে চাই। সরকার যেন আমার ছেলের সন্ধান বের করে দেয় এবং যারা আমার ছেলের সঙ্গে এমন করেছে তাদের বিচার করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত হাওলাদার বলেন, “এলাকার অনেক যুবককে বিদেশে ভালো চাকরি ও ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে দালালরা নিয়ে যায়। পরে তাদের লিবিয়ায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে।”
এ ঘটনায় নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলায় লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর লোকমান হাওলাদার ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজীবের নিখোঁজের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দেড় বছর ধরে নিখোঁজ রাজীবের অপেক্ষায় এখনো পথ চেয়ে আছে তার পরিবার। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়ায় বন্দি রাজীব, দেড় বছরেও মেলেনি সন্ধান

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
১১

ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের যুবক রাজীব মীর। সেখানে পৌঁছানোর পর মানবপাচারকারী চক্রের হাতে বন্দি হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও প্রায় দেড় বছর ধরে রাজীবের কোনো সন্ধান মিলছে না।
ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাজীবের মা শিল্পী বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে প্রতিনিয়ত কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। কখনো ছেলে ফিরে আসবে—এই আশায় দিন গুনছে পরিবার।
পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার প্রস্তাব পান রাজীব। তখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলেন। সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে দালালের সঙ্গে চুক্তি হয় পরিবারের।
চুক্তি অনুযায়ী রাজীবকে বিদেশ পাঠানোর জন্য লোকমান হাওলাদার ও তার সহযোগীদের হাতে প্রায় ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট রাজীবকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজীবকে একটি চক্র আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এরপর তার মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় পরিবারটি সেই টাকা পরিশোধ করে।
কিন্তু এরপরও রাজীবকে ছেড়ে না দিয়ে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ওই টাকা দিতে না পারার পর থেকেই রাজীবের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার।
রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, “দেড় বছর ধরে আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। দালালদের কথাও বিশ্বাস করার মতো নয়। ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে আমরা লাখ লাখ টাকা হারিয়েছি। এখন আমার একটাই চাওয়া—আমার ছেলে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, সেটা জানতে চাই। সরকার যেন আমার ছেলের সন্ধান বের করে দেয় এবং যারা আমার ছেলের সঙ্গে এমন করেছে তাদের বিচার করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত হাওলাদার বলেন, “এলাকার অনেক যুবককে বিদেশে ভালো চাকরি ও ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে দালালরা নিয়ে যায়। পরে তাদের লিবিয়ায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে।”
এ ঘটনায় নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলায় লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর লোকমান হাওলাদার ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজীবের নিখোঁজের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দেড় বছর ধরে নিখোঁজ রাজীবের অপেক্ষায় এখনো পথ চেয়ে আছে তার পরিবার। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।