বন্যাদুর্গত ২,৫১১ সদস্যের পাশে ‘আশা’, বিতরণ ২৫ লাখ ১১ হাজার টাকা নগদ সহায়তা
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ২ হাজার ৫১১ জন সদস্যকে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার এলাকায় এ নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়। ‘আশা’র ডুলাহাজারা শাখার ব্যবস্থাপক কাঞ্চন পালের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক সদস্যের হাতে ১ হাজার টাকা করে মোট ২৫ লাখ ১১ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় নগদ সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘আশা’ তার সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খাদ্য, চিকিৎসা, ঘরবাড়ি মেরামতসহ জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এ অর্থ কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘আশা’ কর্তৃপক্ষ জানায়, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে সদস্য ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সংস্থাটির সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ রয়েছে।
নগদ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার, ‘আশা’র সিনিয়র লোন অফিসার আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষা সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, গুলিস্তান বাজারের সভাপতি ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা রেজাউল করিম, বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে। দুর্যোগের এমন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আশা’র এ উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে।
তারা বলেন, শুধু দুর্যোগের সময় নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াতেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ‘আশা’র মতো দায়িত্বশীল উন্নয়ন সংস্থাগুলো ভবিষ্যতেও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।

























