1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানের লামার রাহিম হোসেন ধনুক হাতে ছুটছেন আন্তর্জাতিক সাফল্যের পথে

লামা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৯

ক্যাম্পাসের সবুজ মাঠে সকাল কিংবা বিকেলে ধনুক হাতে নিয়মিত অনুশীলন করতে দেখা যায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী রাহিম হোসেনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের লামা উপজেলার সন্তান। তাঁর স্বপ্ন জাতীয় আর্চারি দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

রাহিমের আর্চারির প্রতি ভালোবাসার শুরু স্কুলজীবনে। লামা কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনার সময় খেলাটির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লামা শাখার ইনচার্জ সালেহ আহমেদের অনুপ্রেরণায় ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর পেশাদারভাবে আর্চারির জগতে পা রাখেন তিনি।

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশ আর্চারি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন রাহিম। বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার আর্চারি ক্লাবের সদস্য হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় আর্চারি প্রতিযোগিতায় দুটি রৌপ্য পদক এবং বাংলাদেশ আর্চারি লিগে একটি স্বর্ণ ও দুটি রৌপ্য পদকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অসংখ্য পদক অর্জন করেছেন তিনি।

রাহিমের মতে, আর্চারিতে সাফল্যের জন্য মনোযোগ, ধৈর্য ও শারীরিক ফিটনেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি অনুশীলনেও সমান গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সপ্তাহে ছয় দিন প্রতিদিন সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অনুশীলন করেন। যবিপ্রবিতে আর্চারি অনুশীলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে আবেদন করার পর নিয়মিত অনুশীলনের অনুমতিও পেয়েছেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্চারি অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

রাহিম হোসেন বলেন, ‘আর্চারি ব্যয়বহুল একটি খেলা। প্রতিযোগিতামূলক ভালো মানের একটি ধনুকের দাম পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। এমন ব্যয়বহুল খেলায় টিকে থাকার পথে পরিবারের সাপোর্ট আমার জন্য বিশেষ নিয়ামত। বিশেষ করে আজ আমি যতটুকু পথ এগিয়েছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। তাঁর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন আর্চার হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। দেশের জন্য ভালো কিছু করাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’

পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে রাহিমের এই পথচলা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের গল্প নয়, বরং সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে প্রত্যন্ত জনপদের তরুণরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেন—তারও এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:৫০ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানের লামার রাহিম হোসেন ধনুক হাতে ছুটছেন আন্তর্জাতিক সাফল্যের পথে

আপডেট সময় : ০৭:২৩:৫০ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৯

ক্যাম্পাসের সবুজ মাঠে সকাল কিংবা বিকেলে ধনুক হাতে নিয়মিত অনুশীলন করতে দেখা যায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী রাহিম হোসেনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের লামা উপজেলার সন্তান। তাঁর স্বপ্ন জাতীয় আর্চারি দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

রাহিমের আর্চারির প্রতি ভালোবাসার শুরু স্কুলজীবনে। লামা কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনার সময় খেলাটির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লামা শাখার ইনচার্জ সালেহ আহমেদের অনুপ্রেরণায় ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর পেশাদারভাবে আর্চারির জগতে পা রাখেন তিনি।

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশ আর্চারি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন রাহিম। বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার আর্চারি ক্লাবের সদস্য হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় আর্চারি প্রতিযোগিতায় দুটি রৌপ্য পদক এবং বাংলাদেশ আর্চারি লিগে একটি স্বর্ণ ও দুটি রৌপ্য পদকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অসংখ্য পদক অর্জন করেছেন তিনি।

রাহিমের মতে, আর্চারিতে সাফল্যের জন্য মনোযোগ, ধৈর্য ও শারীরিক ফিটনেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি অনুশীলনেও সমান গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সপ্তাহে ছয় দিন প্রতিদিন সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অনুশীলন করেন। যবিপ্রবিতে আর্চারি অনুশীলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে আবেদন করার পর নিয়মিত অনুশীলনের অনুমতিও পেয়েছেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্চারি অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

রাহিম হোসেন বলেন, ‘আর্চারি ব্যয়বহুল একটি খেলা। প্রতিযোগিতামূলক ভালো মানের একটি ধনুকের দাম পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। এমন ব্যয়বহুল খেলায় টিকে থাকার পথে পরিবারের সাপোর্ট আমার জন্য বিশেষ নিয়ামত। বিশেষ করে আজ আমি যতটুকু পথ এগিয়েছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। তাঁর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন আর্চার হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। দেশের জন্য ভালো কিছু করাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’

পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে রাহিমের এই পথচলা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের গল্প নয়, বরং সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে প্রত্যন্ত জনপদের তরুণরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেন—তারও এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।