1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেঙে পড়া পাহাড়ি স্কুল পুনর্নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়া একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত জুলাইয়ের শুরুতে টানা ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টির ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুইজন শিক্ষক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার চারটি গ্রামের শিশুদের শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থল এই বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল।

বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়ার বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে। তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে অবহিত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা প্রশাসন পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে গত ২৩ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অভিভাবক চাই হ্লা মং মারমা বলেন, ‘দুর্গম এলাকার স্কুল বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ভেবেছিলাম স্কুল আর হবে না। কিন্তু সরকার খবর পেয়ে দ্রুত স্কুলঘর নির্মাণ করছে দেখে ভালো লাগছে।’

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে আবারও বিদ্যালয়টি চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আলীকদমের সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দ্রুত পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ মানে শুধু একটি ভবন তৈরি নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি করা।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আনন্দিত।

পাড়া কারবারি দমলয় মুরুং বলেন, চারটি গ্রামের মানুষের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়টি ছিল একমাত্র আশার জায়গা। স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার পর তারা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এখন পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় সন্তানদের শিক্ষার স্বপ্ন আবারও ফিরে এসেছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ভেঙে পড়া পাহাড়ি স্কুল পুনর্নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়া একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত জুলাইয়ের শুরুতে টানা ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টির ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুইজন শিক্ষক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার চারটি গ্রামের শিশুদের শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থল এই বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল।

বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়ার বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে। তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে অবহিত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা প্রশাসন পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে গত ২৩ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অভিভাবক চাই হ্লা মং মারমা বলেন, ‘দুর্গম এলাকার স্কুল বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ভেবেছিলাম স্কুল আর হবে না। কিন্তু সরকার খবর পেয়ে দ্রুত স্কুলঘর নির্মাণ করছে দেখে ভালো লাগছে।’

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে আবারও বিদ্যালয়টি চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আলীকদমের সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দ্রুত পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ মানে শুধু একটি ভবন তৈরি নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি করা।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আনন্দিত।

পাড়া কারবারি দমলয় মুরুং বলেন, চারটি গ্রামের মানুষের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়টি ছিল একমাত্র আশার জায়গা। স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার পর তারা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এখন পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় সন্তানদের শিক্ষার স্বপ্ন আবারও ফিরে এসেছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।