1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশজুড়ে গ্যাস সংকটে রাজধানীর পাম্পে দীর্ঘ যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) সংকট দেখা দেওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্প ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কে গাড়ির অপেক্ষার সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন চালকরা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দর সংলগ্ন মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের সামনে থেকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি প্রায় দেড় কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। চালকদের অনেকে জানিয়েছেন, গ্যাসের জন্য তারা ভোর ৪টা থেকেই লাইনে অপেক্ষা করছেন।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কারচালক লালচাঁন জানান, তিনি গ্যাস নিতে ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়ান। প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর সকাল ১১টার দিকে ১৭০ টাকার গ্যাস পান। তবে এই পরিমাণ গ্যাসে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত।

ইমরান নামের এক এক্সিও মডেলের প্রাইভেট কারচালক জানান, দক্ষিণখান থেকে গ্যাস নিতে এসে উত্তরার দুটি পাম্প ঘুরে ভোর ৬টার দিকে লাইনে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘ সারিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ২১৭ টাকার গ্যাস পান। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় আক্ষেপ নিয়েই পাম্প ছাড়তে হয়েছে তাকে।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আরও অনেক চালক।

এদিকে গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন চালক। মগবাজার থেকে গ্যাস নিতে আসা কামরান নামে এক চালকের অভিযোগ, পাম্পের কর্মীরা ১০০ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে লাইনে না দাঁড়িয়েও অনেককে গ্যাস সরবরাহ করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে পাম্পটির পরিচালক বলেন, দেশব্যাপী গ্যাস সংকটের কারণে তারাও কম সরবরাহ পাচ্ছেন। এর মধ্যে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতেও পর্যাপ্ত চাপ নেই। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রতিটি গাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসের সংকট অব্যাহত থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে পরিস্থিতি আরও ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে একদিকে যেমন চালকদের সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাম্পের আশপাশের সড়কেও তৈরি হচ্ছে যানজট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২০ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বর্তমানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ২টার মধ্যে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পূর্ণ সক্ষমতায় উন্নীত করার আশা করা হচ্ছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে৷ এর আগে সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতির কারণে কার্গোটি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সামিট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে। পাশাপাশি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরাও কম গ্যাসের চাপের কারণে রান্নাবান্নায় ভোগান্তিতে পড়েন। বর্তমানে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেওয়া গেলে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু

দেশজুড়ে গ্যাস সংকটে রাজধানীর পাম্পে দীর্ঘ যানজট

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২০ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) সংকট দেখা দেওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্প ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কে গাড়ির অপেক্ষার সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন চালকরা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দর সংলগ্ন মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের সামনে থেকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি প্রায় দেড় কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। চালকদের অনেকে জানিয়েছেন, গ্যাসের জন্য তারা ভোর ৪টা থেকেই লাইনে অপেক্ষা করছেন।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কারচালক লালচাঁন জানান, তিনি গ্যাস নিতে ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়ান। প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর সকাল ১১টার দিকে ১৭০ টাকার গ্যাস পান। তবে এই পরিমাণ গ্যাসে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত।

ইমরান নামের এক এক্সিও মডেলের প্রাইভেট কারচালক জানান, দক্ষিণখান থেকে গ্যাস নিতে এসে উত্তরার দুটি পাম্প ঘুরে ভোর ৬টার দিকে লাইনে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘ সারিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ২১৭ টাকার গ্যাস পান। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় আক্ষেপ নিয়েই পাম্প ছাড়তে হয়েছে তাকে।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আরও অনেক চালক।

এদিকে গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন চালক। মগবাজার থেকে গ্যাস নিতে আসা কামরান নামে এক চালকের অভিযোগ, পাম্পের কর্মীরা ১০০ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে লাইনে না দাঁড়িয়েও অনেককে গ্যাস সরবরাহ করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে পাম্পটির পরিচালক বলেন, দেশব্যাপী গ্যাস সংকটের কারণে তারাও কম সরবরাহ পাচ্ছেন। এর মধ্যে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতেও পর্যাপ্ত চাপ নেই। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রতিটি গাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসের সংকট অব্যাহত থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে পরিস্থিতি আরও ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে একদিকে যেমন চালকদের সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাম্পের আশপাশের সড়কেও তৈরি হচ্ছে যানজট।